13 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 580TK. 406 You Save TK. 174 (30%)
অন্ধকার ছাড়া আলো যেমন গুরুত্বহীন,
তেমনি খলনায়ক ছাড়া ঈশ্বরেরই বা ভূমিকা কী?
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪০০ অব্দ,
ভারতবর্ষ।
চরম বিশৃঙ্খলা, দারিদ্রতা ও অরাজকতায় পূর্ণ এক ভূমি।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
বর্তমানে প্রকাশনীতে এই বইটির মুদ্রিত কপি নেই। বইটি প্রকাশনীতে এভেইলেবল হলে এসএমএস/ইমেইলের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পেতে রিকুয়েস্ট ফর রিপ্রিন্ট এ ক্লিক করুন।
"স্বগৃহে পূজ্যতে মূর্খা;স্বগ্রামে পূজ্যতে প্রভু
স্বদেশে পূজ্যতে রাজা;বিদ্বান সার্বত পূজ্যত। "
মূর্খ নিজ বাড়িতে পূজনীয় , নিজ গ্রামে পূজনীয় গ্রাম প্রধান, রাজা পূজনীয় নিজের দেশে কিন্তু জ্ঞানী সর্বত্র পূজনীয়।
'রাবণ' নামটা যখন চোখে পড়ে মানসপটে তখন ভেসে উঠে দশমাথা যুক্ত এক ভয়াল দর্শন অবয়ব৷ মোটা দাগে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সামনে রাবণ এভাবেই উপস্থাপিত হয়েছে। রামায়ণ, মহাভারত অসংখ্য দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ রয়েছে। আর্যাবর্তের খলনায়ক পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বণিক ও শ্রেষ্ঠ ধনী রাবণের ক্ষেত্রেও তাই৷ অমীশ ত্রিপাঠি'র সফল শিব ট্রিলজির পর 'রামচন্দ্র সিরিজ' এর তৃতীয় উপন্যাসে আসুন 'রাবণ' কে নতুন চোখে দেখা যাক৷
রামচন্দ্র সিরিজের দ্বিতীয় বই "সীতা" ঠিক যেখানে শেষ হয়েছে ঠিক সেখানেই শুরু হয়েছে 'রাবণ'৷ কিন্তু কোথাও কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় নি অথচ সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় বইয়ের ঘটনাগুলো যেন জীবন্ত হয়ে রূপ দিচ্ছিল 'রাবণ' কে। মূলত সিরিজের তৃতীয় এই বইতে রাবণের শৈশব থেকে সীতাকে অপহরণের ঘটনা পর্যন্ত লেখক উপস্থাপন করেছেন৷ তৎকালীন বিখ্যাত ঋষি বিশ্রবা'র পুত্র লঙ্কেশ্বর রাবণ অরণ্যবাসী থেকে কিভাবে সোনায় মোড়া লঙ্কার সিংহাসনে আসীন হলেন আর কেন ই বা জন্মভূমি আর্যাবর্তের অন্যতম শত্রু হয়ে উঠলেন এই গল্পটা তার। এক মানুষের নরপিশাচ হয়ে উঠার আখ্যান 'রাবণ- এনেমি অব আর্যাবর্ত'।
অমীশ'র লেখা মানে ভিন্ন স্বাদ পাবার নিশ্চয়তা। এক্ষেত্রে অমীশ যেন আরো সংবেদনশীল হয়েছেন৷ রামায়ণের প্রত্যেকটি চরিত্রকে বিশ্লেষণ, সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে রাবণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছেন নিপুণ করে। এই লেখার মধ্যে দিয়ে যে এক নতুন রাবণের সন্ধান পেলাম তা বলা বাহুল্য। আমাকে আকৃষ্ট করেছে বেদবতীর প্রতি রাবণের একনিষ্ঠ প্রেম। আমার মতে প্রধান চরিত্র না হইয়াও বেদবেতী এই বইয়ের প্রধান চরিত্র।
অনুবাদ ভালো লেগেছে। ভূমিপ্রকাশ'কে ধন্যবাদ অনেক দেরীতে হলেও 'রাবণ' আনার জন্য। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলো। অনুবাদকদ্বয়ের প্রতি রইল শুভকামনা। অনুবাদের পাশাপাশি প্রচ্ছদ করেছেন 'রুদ্র কায়সার'। বানান সংশোধন ও সম্পাদনা করেছেন 'পূর্ণতা(ব্যক্তি নাকি সংস্থা বলতে পারছি না)'। সংস্থা হলে সম্পাদনায় আরো সচেতন হওয়া উচিত।
অন্ধকার ছাড়া আলো যেমন গুরুত্বহীন, তেমনি খলনায়ক ছাড়া ঈশ্বরেরই বা ভূমিকা কী?
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪০০ অব্দ,
ভারতবর্ষ।
চরম বিশৃঙ্খলা, দরিদ্রতা ও অরাজকতায় পূর্ণ এক ভূমি। অধিবাসীদের অধিকাংশই
নীরবে সহ্য করে চলেছে সব অন্যায়। কিছু বিদ্রোহীও রয়েছে। এদের কেউ লড়াই করছে চলমান অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে সুন্দর এক পৃথিবী প্রতিষ্ঠায়, কেউ কেবল নিজের জন্য। কারো কারো আবার এসব নিয়ে কোনো ধরনের ক্ষোভ নেই ।
রাবণ। তৎকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঋষির পুত্র। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ধন্য। সর্বপ্রকার প্রতিভার অধিকারী। একই সাথে নিয়তির দ্বারা চরমভাবে পরীক্ষিত; দুর্ভাগ্য যার জন্মসঙ্গী ।
নিজের কাজে দক্ষ ভয়ংকর এক কিশোর দস্যু। একাধারে সে সাহসিকতা, নিষ্ঠুরতা ও ভয়ানক সংকল্পে পূর্ণ । বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার সংকল্প থেকেই মহত্ত্বকে জয়, লুণ্ঠন ও দখল করে নেওয়াকে নিজের অধিকার বলে মনে করে । অকল্পনীয় হিংস্রতা, অগাধ জ্ঞান আর খামখেয়ালিতে পূর্ণ এক মানুষ, যার রয়েছে কাউকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারার ক্ষমতা, আবার যে পরিণত হতে পারে অনুশোচনাহীন এক নিষ্ঠুর হন্তারকে।
রামচন্দ্র সিরিজের তৃতীয় গ্রন্থ 'রাবণ: এনিমি অব আর্যাবর্ত'-এ লঙ্কেশ রাবণের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। আর সেই আলো উন্মোচিত করেছে অন্ধকারের গভীরতম অধ্যায়। সে কি ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খলনায়ক, নাকি শুধু অন্ধকার জগতের একজন মানুষ?
সর্বকালের সবচেয়ে জটিল, হিংস্র, আবেগময় ও দক্ষ মানুষদের একজনকে নিয়ে রচিত মহাকাব্যটি পাঠ করা যাক...
বই: রাবণ- এনেমি অব আর্যাবর্ত[রামচন্দ্র সিরিজ]
লেখক: অমীশ ত্রিপাঠি
অনুবাদ: রুদ্র কায়সার/মো. ফুয়াদ আল ফিদাহ
প্রকাশনী: ভূমিপ্রকাশ
মলাটমূল্য: ৫৮০৳