বাংলা উপন্যাসশিল্পে প্রথম নিরীক্ষাপ্রবণ ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্। তিনি মানুষের মনোজগতের রহস্যস্তরের কথাগুলো কখনো অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শনে, কখনো চেতানপ্রবাহরীতিতে বর্ণনাসূত্রে উপন্যাসের প্লটবিন্যাস করেছেন। আমরা দেখছি বিভাগোত্তরকালে মানুষ যেমন অস্তিত্বসংকটে নিপতিত হয়েছিলো, তেমনি এক শ্রেনির মানুষ বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে ধর্ম ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের পন্থা অন্বেষণ করেছে। গ্রামীণ জনজীবনের একশ্রেণির চতুরলোক মানুষের লৌকিক বিশ্বাস, ধর্মভীতি, দোয়া-তাবিজ ও পীর-আউলিয়ার ভয়-ইত্যাদির মাধ্যমে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ধোকা দিয়ে, ভীতি প্রদর্শন করে জীবনযাপন করে। এমন এক অভিপ্রায়ে মজিদ রাতের অন্ধকারে মহব্বত নগরে এসে রাতারাতি মোদোচ্ছের পীরের মাজার আবিষ্কার করে। এ উপন্যাসে ধর্মব্যবসার বিষয়টি ফুটে উঠলেও উপন্যাসটিতে অস্তিত্ববাদী জীবন দর্শনই মূখ্য হলও এখানে নারীর স্বাধিকার স্ফূরণ দেখা যায়।