5 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 450TK. 387 You Save TK. 63 (14%)
‘টাল্টু’ নামক মরণনেশার বিরুদ্ধে যুদ্ধটা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে ব্যুরো অব নার্কোটিক্স অ্যান্ড সাবস্ট্যান্স কন্ট্রোলের (বিএনএসসি) জন্য। সরষের ভেতরে ভূত। কেউ গা বাঁচিয়ে পালাতে চাচ্ছে, ক
যত গর্জে, তত বর্ষে না!
বলছিলাম অবসর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত রাফাত শামসের লেখা "মৃত্যুঞ্জয়"-এর কথা। অনেক তর্জন-গর্জন শুনছিলাম বইটা নিয়ে। মানছি, আমি নিজেও প্রচুর গর্জেছি! আসলে সিরিজের আগের দু'টো বই পড়ে এই সিরিজটার এমনই ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম আবেগের বশে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে গর্জন করেছি এই সিরিজটা নিয়ে। কিন্তু ঐযে বললাম, যত গর্জে, তত বর্ষে না!
আসলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যত গর্জে, তার চাইতে বেশিই বর্ষে। আর এই বইটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যতটা গর্জন শুনেছিলাম আর আমি নিজেও করেছিলাম, তার চাইতেও কয়েক লক্ষ গুণ বেশি বর্ষেছে! 🔥🔥🔥
যাই হোক, এত অসাধারণ একটা বইয়ের রিভিউ দেওয়ার যোগ্যতা আমার নেই। তবুও যতটুকু যোগ্যতা আছে, তার জোরেই সামান্য আলোচনা করছি বইটা নিয়ে:
মৃত্যুঞ্জয়...
এটি মূলত জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক রাফাত শামসের ড্রাগলর্ড সিরিজের শেষ আখ্যান। এই সিরিজের প্রথম বই ছিল "মৃত্যুর পেলব স্পর্শ", আর দ্বিতীয় বই "মৃত্যুরেণু"।
২০২১ সালে মৃত্যুর পেলব স্পর্শ পড়ার পরে যেভাবে অপেক্ষা করেছিলাম এই ট্রিলজির দ্বিতীয় পর্ব মৃত্যুরেণুর জন্য, ঠিক একই ভাবে ২০২২ সালে মৃত্যুরেণু পড়ার পর থেকে পুরো একটা বছর খেয়ে না খেয়ে অপেক্ষা করেছি শেষ পর্ব "মৃত্যুঞ্জয়"-এর জন্য! সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখ অবসর প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হলো "মৃত্যুঞ্জয়"।
গতকাল রাতে পড়ে শেষ করলাম বইটি। মৃত্যুরেণুর সমাপ্তিটা পাঠক হিসেবে আমাকে যেই অবসাদের চোরাবালিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল, বলবো না যে মৃত্যুঞ্জয়ের সমাপ্তি আমাকে সেই চোরাবালি থেকে বের করে এনেছে। বরং সেই চোরাবালির নীচ দিয়ে অন্য একটা জগতে নিয়ে গেছে আমাকে, যেই জগৎটাতে পা রেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম আমি! এবং আমি লিখে দিতে পারি, যেকোনো পাঠক-ই হতভম্ব হতে বাধ্য! আর সেই হতভম্ব ভাবটা কেটে যাওয়ার পরে পাঠকের মুখে ফুটে উঠবে এক টুকরো হাসি, ঠিক যেমনটা আমার মুখে ফুটে উঠেছিল। তবে সেই হাসিটা ঠিক কীসের হাসি, সেটা আমি বলে দেবো না। কারণ সেটাও স্পয়লার হয়ে যাবে!
"মৃত্যুর পেলব স্পর্শ" পড়ে মনে হয়েছিল, এই সিরিজের নায়ক সাজ্জাদ আলম। "মৃত্যুরেণু" পড়ে মনে হয়েছিল, এই সিরিজের নায়িকা রাবেয়া বসরী। কিন্তু "মৃত্যুঞ্জয়" পড়তে গিয়ে শুরু থেকে শেষ অবধি আমি কেবল ভেবে গিয়েছি- কে নায়ক? কে নায়িকা? আর খলনায়ক-ই বা কে?! কে ভালো? কে খারাপ?
কিচ্ছু বোঝার উপায় নেই! একমাত্র মরণনেশা টাল্টুই শুরু থেকে শেষ অবধি অপরিবর্তিত রয়ে গিয়েছে। এছাড়া সবাই এবং সবকিছুই সময়ে সময়ে পাল্টেছে, রূপ ও রঙ বদলেছে...
আর সিরিজের প্রধান চরিত্র কে? প্রথম দু'টি বইয়ে তো তাও বলা যায় যে অমুক, তমুক প্রধান চরিত্র। কিন্তু "মৃত্যুঞ্জয়"-এর বেলায় এটা বলা কেবল মুশকিল না, রীতিমতো অসম্ভব! কারণ এখানে যে চরিত্রটা কেবল একটা অধ্যায়ে অল্প কিছুক্ষণের জন্যে এসেছে, সেই চরিত্রটাকে পর্যন্ত প্রধান চরিত্র না বলে উপায় নেই!
আরো একটা বিষয়ের ওপরে আলোকপাত না করলেই নয়...
অনেকেই বলে থাকেন, থ্রিলার গল্প, উপন্যাস ইত্যাদিতে গভীরতা বলে কিছু থাকে না। যারা এরকমটা মনে করেন, তাদেরকে আমি বলবো এই বইটি পড়তে। "মৃত্যুঞ্জয়" একই সঙ্গে দ্রুত গতি এবং সাগর সমান গভীরতাসম্পন্ন একটি থ্রিলার উপন্যাস, যেখানে প্রতিটা চরিত্রেরই আছে সাগর সমান গভীরতা....
আর হ্যাঁ, পুরো সিরিজটি একটি নারকোটিক থ্রিলার সিরিজ হলেও সিরিজের শেষ আখ্যান "মৃত্যুঞ্জয়" একাধারে গ্যাংস্টার থ্রিলার, পলিটিক্যাল থ্রিলার, কনস্পিরেসি থ্রিলার এবং রিভেঞ্জ থ্রিলার।
যাই হোক, পাঠকদেরকে স্বাগত জানাচ্ছি টানটান উত্তেজনাময় এই সিরিজে ডুব দিতে... 😇
ব্যক্তিগত রেটিং:
⭐⭐⭐⭐⭐
(৫/৫)