মোবাইল গেম বা কার্টুনের ভিড়ে শিশু-কিশোরদের তাদের উপযোগী বইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া এখন অতীব জরুরি!
.
কয়েকদিন আগেই কিশোর উপযোগী এই সীরাত বইটা পড়া শেষ করলাম। বইটির লেখক কলকাতার লেখক আবদুল আযীয আল আমান (রহ.)। সিরাত সাহিত্য রচনায় তাঁর অবদান অনেক। এই অমর গদ্যশিল্পীর চমৎকার গুণ হলো শব্দ জাদুতে পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা না আসা অবধি আটকে রাখেন। পাঠক হৃদয়ে গেঁথে যায় বইয়ের প্রতিটি বাক্য। আজ থেকে প্রায় ৪২ বছর আগে লেখক কোমলমতি শিশু-কিশোরদের কথা ভেবে চমৎকার এই সিরাত সাহিত্য লিখেছিলেন। পুরো বইয়ে প্রিয় নবীজির ﷺ জীবনীকে অল্প কথায় গল্পভাষ্যে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। একবার পড়লে পাঠকের স্মরণে থাকবে নবীর জীবনী।
.
লেখকের ‘সিরাত সিরিজ’ পড়ার পর এই বইটার প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল। সিরাত পড়ার আনন্দ অন্যরকম, যদি হয় সেটা সাহিত্যের আঙ্গিকে লেখা । শিশু-কিশোরদের সীরাত বই পড়তে উৎসাহিত করা দরকার। সহজ ভাষায় মহানবীর জীবনী জানার জন্য এর চেয়ে ভালো বই আর হয় না।
.
খুবই অল্প কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে বইটা পড়তে গিয়ে। বইয়ের যুক্তবর্ণসমূহ ভেঙে লেখার কারণে পড়তে আরাম পাইনি। কিছু পৃষ্ঠা একাধিক আছে শেষের দিকে ( প্রিন্টিং ভুল)। পরবর্তী সংস্করণের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে নজর দেয়া দরকার। ভালো মানের বইগুলোর ক্ষেত্রে এমন ছোটখাটো ভুল মেনে নেয়া যায়, যদিও সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। এরপরও পাঠকদের প্রত্যাশা ,ভুল-ত্রুটির সংখ্যা শূণ্যের কোটায় দেখতে।
.
সর্বোপরি, বইটা শিশু বিশেষ করে কিশোরদের জন্য বেশ উপযোগী। সিরাত পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তুলবে। এই চমৎকার বইটা কিশোর পাঠকদের প্রতি পড়ার জন্য অনুরোধ রইল। গল্পভাষ্যে কত চমৎকার একটা সীরাত বই, পড়লে আপনি অবাক হবেন।