খুব সুন্দর একটি বই। মহাভারতের উপর বাস্তবধর্মী বিশ্লেষণ।
Was this review helpful to you?
By Isfaque Haider, Apr 8, 2014
সুব্রত আমাদের প্রচলিত বিশ্বাস ও সাধারণীকৃত ধারণার বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। সাধারণ হিন্দুর কাছে মহাভারত একটি ধর্মগ্রন্থ। বর্তমান লেখক সেভাবে মহাভারত পাঠ করেননি। তিনি সাহিত্যগ্রন্থ রূপে মহাভারতের সমীপবর্তী হয়েছেন। মুক্তমন ও স্বচ্ছ ধারণাই ছিল তাঁর বাহন। আমার মহাভারত নামটি বলে দেয়, তাঁর যা নিজস্ব চিন্তা মহাভারত সম্পর্কে, তিনি সেটিই প্রকাশ করেছেন। তবে আলাদা রকম কোন ‘ডগমার’ আমদানি করেননি। তাঁর গদ্য মেদহীন, প্রায় অলংকার বর্জিত, শুধু তথ্যের কাছে বিশ্বস্থ থাকার প্রয়াস। লেখক তত্ত্বের পরিধি বেয়ে বৃত্তাবদ্ধ করেননি তাঁর চিন্তনকে।
Was this review helpful to you?
By Isfaque Haider, Apr 8, 2014
রিষ্টপূর্ব মোটামুটি ৩৫০০ বছর পূর্বে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস ওরফে ব্যাসদেব রচিত সংস্কৃত মহাভারত বাংলা হিন্দি ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষাগুলোর সাথে সাথে ইউরোপীয় ভাষাতেও পেয়েছে ব্যাপক পাঠকপ্রীতি। এককালে বাঙালি পাঠকের নিত্যদিনের সঙ্গী সে গ্রন্থের আদর বাংলাদেশে কমে গেলেও ইউরোপীয় সমাজে ক্রমবর্ধিষ্ণু। দর্শন, রাজনীতি, সাহিত্যবোধ ইত্যাকার বিষয়গুলোই সে প্রসারের মূল কারণ ভাবলে ভুল বলা হবে না। সম্প্রতি টরন্টোতে অভিবাসী বাংলাদেশের লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস নতুন করে এ মহাকাব্যটি পড়তে গিয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছেন ভিন্নতর বিশ্লেষণে। অভিনব দৃষ্টিকোণ থেকে রচিত লেখকের সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলোর মলাটবদ্ধ রূপ ‘আমার মহাভারত’।
গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধগুলো হলো: আমার মহাভারতপ্রীতি, মহাভারত নিয়ে কথা, মহাভারতের নির্মাণ, কুরুক্ষেত্রে সমর প্রসঙ্গ, মহাভারত প্রাসঙ্গিকতায় ‘১৮’ সংখ্যার মাহাত্ম্য, পৌরাণিক ইতিহাসে শ্রীকৃষ্ণ, মহাভারতে গীতার অস্তিত্ব, মহাভারতের অনুবাদ এবং রজ্মনামাহ্ প্রসঙ্গ, কালীপ্রসন্ন সিংহের মহাভারত অনুবাদ প্রসঙ্গ, রবীন্দ্রনাথের মহাভারত চর্চা, মহাভারত প্রসঙ্গে মহাভারতÑমঞ্জরী, মহাভারতের পশ্চিম যাত্রা: একটি পর্যবেক্ষণ প্রচেষ্টা, ব্যাস এবং ব্যাস প্রসঙ্গ, প্রসঙ্গ জৈমিনি মহাভারত। এছাড়াও পরিশিষ্ট-তে রয়েছে বাঙালির মহাভারত শিরোনামের রচনা।