========= কাহিনী/বইয়ের সার-সংক্ষেপ ==========
১ম খণ্ডের পর...
“আলী (রাঃ) এর বাহিনীতে উসমান (রাঃ) এর হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিছু সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীরা ঘাপটি মেরে ছিল। সেখানে এমন কিছু লোক ছিল, যাদের কেউ চিনত না; এমন অনেকে ছিল, যারা পরিচিত হলেও তারা তাদের গোত্রের ছত্রছায়ায় ছিল; এমন অনেকে ছিল, যাদের উসমান (রাঃ) এর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে কোন প্রমাণ ছিল না এবং এমন অনেক মুনাফিক ছিল, যারা প্রকাশ্যে নিজেদের কর্মতৎপরতা দেখাতে সাহস করেনি। সাবায়ীদের অনুগত দল ফেতনার আগুন প্রজ্বলিত করতে উদগ্রীব হয়ে ছিল, যাতে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে না হয়।”
আলী (রাঃ) দ্বীনি ইলম এবং দূরদর্শীতার মাধ্যমে ইসলামী শাসনকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য জনগণকে তাওহীদের প্রতি আহ্বান এবং শিরকের বিরূদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গঠন করেন পুলিশ বাহিনী। বিচার ব্যবস্থা সংস্কার ও উন্নত করার জন্য অনেক বিখ্যাত বিচারকদেরও নিয়োগ দেন এবং ন্যায় বিচারের জন্য বিচারকদের সতর্কও করে দেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন নতুন নতুন সমস্যা উদ্ভব হওয়ায় তার যুগে সাহাবী ও খুলাফায়ে রাশেদিনের মতামতসমূহকেও শরীয়াহর দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
কিন্তু তার সময়ে সবচেয়ে বড় ফিতনা হিসেবে উদ্ভব হয় সাবায়ীরা। উসমান (রাঃ) এর হত্যার প্রতিশোধ নিতে মূলত মুসলিম উম্মাহ তখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। আপোসরফার চেষ্টা করা হলেও সাধারণ মানুষের উপর শয়তানের কুমন্ত্রণা ও মুনাফিকদের গোপন ষড়যন্ত্রে তা শেষ পর্যন্ত সিফফিনের যুদ্ধে গিয়ে গড়ায়। মুসলিম উম্মাহতে তৈরি হয় এক অপূরণীয় ক্ষতি।
========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ==========
খুলাফায়ে রাশেদীন সিরিজের মধ্যে এই বইটি আলী (রাঃ) এর জীবনীর ২য় খন্ড। বইটিতে লেখক আলী (রাঃ) এর ইসলামের ৪র্থ খলীফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সিফফিনের যুদ্ধ পর্যন্ত যাবতীয় গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ বিস্তারিত বিবরণ ও সূত্রসহ তুলে ধরেছেন।
হযরত আলী (রাঃ) এমন এক সময় মুসলিম উম্মাহর খলিফার দায়িত্বে বসেন যখন ইসলাম প্রকাশ্য শত্রু ও আড়ালে লুকিয়ে থাকা মুনাফিকের দল ইসলামের বিরূদ্ধে ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
একে তো উসমান (রাঃ) কে হত্যার পর শোকে মুহ্যমান ও টালমাটাল অবস্থায় ছিলো মুসলিম উম্মাহ। এর মধ্যেই তার হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে মুআবিয়া (রাঃ) এর নেতৃত্বে সেই উম্মাহর মধ্যেই তৈরি হয় ভাঙ্গন! আয়েশা (রাঃ) ও আলী (রাঃ) প্রাণপনে চেষ্টা করলেও মুসলিম উম্মাহ মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও মুনাফিকদের ষড়যন্ত্রে তা ভেস্তে যায় এবং তা শেষ পর্যন্ত সিফফিনের যুদ্ধে গিয়ে গড়ায়। যা মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিলো সত্যিই এক দুঃখজনক ঘটনা।
তৎকালীন মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমৃদ্ধি আসায় মানুষের মাঝে তৈরি হয় নানা মত ও ফিতনা; মানুষ মুসলিম উম্মাহকেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা থেকে দূরে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করে। আলী (রাঃ) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেসব মোকাবেলা করেন এবং তিনি বিশেষ করে সামাজিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা সংস্কার নিয়ে আসেন।
খুলাফয়ে রাশেদীন যুগের স্বর্ণালী ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও গবেষণার কাজে বিশ্লেষণ করতে যারা আগ্রহী তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য একটি বই। তবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণজনিত সঙ্গত কারণেই আমার মতো সাধারণ পাঠকের কাছে বইটি একটু নিরস লেগেছে। কিন্তু বইয়ের অনুবাদের ভাষা, কাহিনীর বর্ণনাশৈলী আমার কাছে ভালোই। সকল মুসলিমদের জন্য ও খলিফাদের সময়কালের যাবতীয় বিষয়ের খুঁটিনাটি জানার জন্য বইটি পাঠ করা আবশ্যক বলে মনে করি।
প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন, বইয়ের বাইন্ডিং, ফন্ট সাইজ, পৃষ্ঠার কোয়লিটি দারুণ ছিলো। বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়েনি।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০।
Was this review helpful to you?
By Dr.Setu, Jun 23, 2021
Verified Purchase
Alhamdulillah
Was this review helpful to you?
By Ariful islam, Oct 30, 2019
বইটি আসলে কেউ পড়েছেন কি? আমি পড়ছি। মাশল্লাহ আল্লার নবীদের ঘটনা খুব মার্জিত ভাবে বুঝানো রয়েছে এই বইটিতে।