262 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 100
"জীবন ও কর্ম: উমর ইবনুল খাত্তাব-২য় খণ্ড" বইয়ের পিছনের কভার:
আমরা বর্তমানে এক বিশৃঙ্খল পৃথিবীতে বসবাস করছি। তবে তা উমর রা.-এর সমকালীন যুগের বিশৃঙ্খলতা থেকে বেশি নয়। উমর
========= কাহিনী/বইয়ের সার-সংক্ষেপ ==========
১ম খন্ডের পর...
উমর (রাঃ) মুসলিম জাহানের ২য় খলিফা হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে মুসলিম শাসিত অঞ্চলকে মক্কা, মদীনা, তায়েফ, ইয়ামান, বাহরাইন, মিসর, শাম প্রভৃতি প্রদেশসমূহে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয় যা ছিলো মূলত আবু বকর (রাঃ) এর খেলাফতকালে বিভক্ত ও বন্টিত প্রদেশসমূহেরই সম্প্রসারণ। এসব প্রদেশে তিনি যোগ্য ও দায়িত্ববানদের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। আর তিনি গভর্নরদের শুধু নিয়োগ প্রদান করেই ক্ষান্ত হননি, গভর্নরদের নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। কারোও দায়িত্বে অবহেলা ও ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তাদের শাস্তি প্রদান ও অপসারণ করতেন।
উমর (রাঃ) এর শাসনামলে মুসলিম জাহানের বিস্তৃতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তার শাসনামলেই নামারিকের যুদ্ধ, কাসকারে সাকাতিয়ার যুদ্ধ, বারুসমার যুদ্ধ, আবু উবাইদ- এর সেতু যুদ্ধ, কাদিসিয়ার যুদ্ধ, নাহাওয়ান্দ যুদ্ধ প্রভৃতি সংঘটিত হয়। এর ফলে ইরাকের বিস্তৃত অঞ্চল মুসলিমদের কারায়ত্বে চলে আসে।
এই বিজয়ের ধারা অব্যাহত থাকে পারস্যের বিস্তৃত অঞ্চল, সিরিয়া, মিসর ও লিবিয়াতেও মুসলিম সাম্রাজ্য ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে। এসব যুদ্ধে মুসলিমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা গুরুত্ত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করে। রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলিমরা আরোও শক্তিশালী হয়ে উঠে।
মৃত্যুর আগেও তিনি মুসলিম জাহানে ছড়িয়ে পড়া ফেতনা ও এর পরবর্তীতে এর ভয়াবহতা নিয়ে সবসময়ই চিন্তিত থাকতেন তিনি।
অবশেষে ৩৩ হিজরী সনে ৬৩ বছর বয়সে তিনি শাহাদাৎবরণ করেন।
সাঈদ ইবনে যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি উমর (রাঃ) এর মৃত্যুতে কাঁদছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আপনি কেন কাঁদছেন?’ তিনি বললেন, ‘ইসলামের জন্য। উমরের মৃত্যুতে ইসলামের দেয়ালে একটি ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা কেয়ামত পর্যন্ত আর মেরামত করা সম্ভব হবে না।’
========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ==========
এই খুলাফায়ে রাশেদীন সিরিজের আবু বকর আস-সিদ্দীক (রাঃ) এর পর উমর (রাঃ) এর জীবনীগ্রন্থের এটি ২য় খন্ড। এই বইতে উমর (রাঃ) এর খলিফা মনোনীত হওয়ার পর ইসলাম ও মুসলিম শাসিত অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য বিস্তৃতি এবং সেই অঞ্চলগুলোতে দক্ষ প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। উমর (রাঃ) এর আমলেই ইরাক, মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, পারস্যের বিস্তৃত অঞ্চল ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়। উমর (রাঃ) এর শাসনামলে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিলো বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সমাধানে তার সর্বাত্মক চেষ্টা ও সংগ্রাম। তিনি ছিলেন ইসলামের ধারক, সর্বদা জিহাদের পতাকা উড্ডীন রেখেছেন, শত্রুভূমি বিজয় করেছেন, মানুষের মধ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন, ইসলামী রাষ্ট্রে সর্বপ্রথম অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূচনা করেছেন, সীমান্ত রক্ষায় নিয়মিত বাহিনী নিয়োগ করেছেন, সৈন্যদের সুযোগ-সুবিধাসহ বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, আর্থিক লেনদেনে মুদ্রার ব্যবস্থা প্রচলন করেছেন, ডাক ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছেন, নতুন নতুন ইসলামী শহর প্রতিষ্ঠা করেছেন ইত্যাদি বিশদ ও বিস্তারিত আকারে বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসমস্ত যাবতীয় গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনাবলী বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে উক্ত বইয়ে বিবৃত করা হয়েছে। প্রায় সকল ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করার পাশাপাশি সেসব ঘটনার ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণও করা হয়েছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইসলামের স্বর্ণালী ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও গবেষণার কাজে বিশ্লেষণ করতে যারা আগ্রহী তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য একটি বই। বইয়ের অনুবাদের ভাষা, কাহিনীর বর্ণনাশৈলী আমার কাছে দারুণ লেগেছে। সকল মুসলিমদের জন্য ও খলিফাদের সময়কালের যাবতীয় বিষয়ের খুঁটিনাটি জানার জন্য বইটি পাঠ করা আবশ্যক বলে মনে করি।
প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন, বইয়ের বাইন্ডিং, ফন্ট সাইজ, পৃষ্ঠার কোয়লিটি দারুণ ছিলো। বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়েনি।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০।