========= কাহিনী/বইয়ের সার-সংক্ষেপ ==========
ইসলামের ৩য় খলিফা উসমান (রাঃ) এর শাহাদাতের পর সমগ্র মুসলিম জাহানের ৪র্থ খলিফা হিসেবে নির্বাচিত হন আলী ইবনে আবি তালিব (রাঃ)। আলী (রাঃ) ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) কাছে এবং তিনি শুধু মহানবী (সাঃ) এর সাহাচার্যেই বেড়ে উঠেননি; বরং তিনি ছিলেন বিগত তিন খলিফার অত্যন্ত কাছের কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সুপরামর্শদাতা এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি। আর ছিলেন নবীজীর চাচাতো ভাই ও জামাতা এবং হাসান ও হোসাইনের পিতা। শুধু তাই নয় আলী (রাঃ) হচ্ছেন প্রথম সন্তান যিনি কাবা শরীফের ভেতরে ভূমিষ্ঠ হন।
আলী (রাঃ) নবী করীম (সাঃ) এর নবুওয়াত প্রাপ্তির ১৫ বা ১৬ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ লাভ করেন। তার পিতা ছিলেন আবু তালিব, যখন নবী করীম (সাঃ) প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন ইনিই ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি নবীজীকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ান ও সর্বাবস্থায় তাকে সাহায্য-সহযোগীতা করেন।
নবী করীম (সাঃ) এর হিজরত থেকে বদর যুদ্ধ, উহুদ যুদ্ধ, বনু নযীর অভিযান, হামরাউল আসাদ যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধ, মক্কা বিজয়, বিদায় হজ্জ্ব এবং তার ইন্তেকালের সময় পর্যন্ত সর্বদা আলী (রাঃ) ছিলেন তার সবসময়ের সঙ্গী। খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে তিন খলীফারই তিনি ছিলেন সবসময়েরই যোগ্য সহচর ও সুপরামর্শদাতা। ইসলামের ৩য় খলীফা উসমান (রাঃ) এর শাহাদাতের পর তিনি সমগ্র মুসলিম জাহানের ৪র্থ খলীফা নির্বাচিত হন।
কুরআনের বাণী, নবীর সুন্নাহ ও পূর্ববর্তী খলীফাদের অনুসরণ করে তিনি দ্বীনি ইলম এবং দূরদর্শীতার মাধ্যমে ইসলামী শাসনকে আরো সামনে এগিয়ে নিতে শুরু করেন।
========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ==========
খুলাফায়ে রাশেদীন সিরিজের মধ্যে এই বইটি আলী (রাঃ) এর জীবনীর ১ম খন্ড। বইটিতে লেখক আলী (রাঃ) এর জন্ম থেকে শুরু করে ইসলাম গ্রহণ, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে সকল কাজে অংশগ্রহণ, বিগত তিন খলীফাদের সাথে সকল কাজে ও যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ইসলামের ৩য় খলিফা উসমান (রাঃ) এর শাহাদাতের পর ইসলামের ৪র্থ খলীফা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের যাবতীয় গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ বিস্তারিত বিবরণ ও সূত্রসহ তুলে ধরেছেন।
নবী করীম (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর বিগত তিন খলীফাদের শাসনামলে আলী (রাঃ) এর সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ত্বপূর্ণ অবদানসমূহ, বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ পর্যন্ত যাবতীয় গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনাবলী বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে বিবৃত করা হয়েছে। প্রায় সকল ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করার পাশাপাশি সেসব ঘটনার ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণও করা হয়েছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আলী (রাঃ) এর অবদানকে হেয় প্রতিপন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সর্বোপরি ইসলামে বিভক্তি তৈরির উদ্দেশ্যে কতিপয় বিপথগামী গোষ্ঠী তাকে কেন্দ্র করে পুরো খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগটিকে যে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে তার প্রতিটি ঘটনাসমূহকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই বইয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এসব পারস্পরিক স্বার্থ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক দ্বন্দ নিরসণে আলী (রাঃ) স্বয়ং নিজেই বলেন,
“মনে রেখ আমি কোন নবী নই কিংবা আমার প্রতি ওহীও আসে না। অবশ্য আমি যথাসাধ্য আল্লাহর কিতাব ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের ওপর আমল করি। তিনি হচ্ছেন আদর্শের উত্তম নমুনা ও দাওয়াতী কর্যক্রমের অনন্য দিশারী।”
খুলাফয়ে রাশেদীন যুগের স্বর্ণালী ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ও গবেষণার কাজে বিশ্লেষণ করতে যারা আগ্রহী তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য একটি বই। তবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণজনিত সঙ্গত কারণেই বিভিন্ন ঘটনা বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় একাধিকবার উল্লেখ করার কারণে আমার মতো সাধারণ পাঠকের কাছে বইটি একটু নিরস লেগেছে। কিন্তু বইয়ের অনুবাদের ভাষা, কাহিনীর বর্ণনাশৈলী আমার কাছে ভালোই লেগেছে। তবে আনুবাদ আরোও সাবলীল হওয়া দরকার ছিলো বলে মনে করি। সকল মুসলিমদের জন্য ও খলিফাদের সময়কালের যাবতীয় বিষয়ের খুঁটিনাটি জানার জন্য বইটি পাঠ করা আবশ্যক বলে মনে করি।
প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন, বইয়ের বাইন্ডিং, ফন্ট সাইজ, পৃষ্ঠার কোয়লিটি দারুণ ছিলো। বানান ভুল তেমন একটা চোখে পড়েনি।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০।
Was this review helpful to you?
By Muhammad Hasan, Jul 29, 2021
Verified Purchase
বাজারের অনেক বইয়ের মধ্যে এটা একটা বই যেখানে অনেক রেওয়ায়েত সংযুক্ত আছে। বিশেষ করে ইমাম আলীর ক্বাবার অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করার ঘটনাটি লেখক নিজের ইচ্ছা বলে বাদ দেন নাই। সে তাঁর এই সততার জন্য য়াল্লহর কাছে দোয়া প্রার্থী।