১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
অনলাইন বাণিজ্য মেলায় আপনার পছন্দের পণ্যে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়! বছরের শুরুতেই সেরা ডিল, রকমারি অনলাইন বাণিজ্য মেলা, ২০২৬
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে কৃষিখাতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। একদা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনে বহু চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে আসতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটাতে আমদানির উপর নির্ভর করতে হতো। দরিদ্র ও অতি-দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ ছিল চরমে। দেশে জমি বাড়ার সুযোগ না থাকলেও জনসংখ্যা বাড়ছে, বর্তমানে এসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। দেশে খাদ্য উৎপাদন না বাড়লে মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা থেকে যাবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে কৃষিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে সমবায়ের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর প্রদর্শিত ও দূরদর্শী পথ অনুসরণ করলে দেশ আরও আগে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিখাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং পাশাপাশি তাঁর নির্দেশে সৃষ্ট পারিপার্শ্বিকতায় কৃষক ও কৃষিশ্রমিক কৃষিকে এগিয়ে নিতে শ্রম দিতে থাকে। ফলে ধানের উৎপাদনের সাথে সাথে রবি শস্য, শাক-সব্জি, ফল, পোল্ট্রি, গবাদি পশু এবং মৎস্য চাষে দেশ অনেক উন্নতি করেছে। উৎপাদনের এ ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।
ড. জাহাঙ্গীর আলম তাঁর কৃষি ও সমবায় গ্রন্থটিতে কৃষি উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেছেন। তিনি কৃষি উৎপাদনের দিকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি কৃষকের জন্য কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন। কোন কোন বিষয়ে সরকারের আরও নজর দেয়া দরকার সেকথাও বলেছেন।
ড. জাহাঙ্গীর আলমের লেখা অত্যন্ত প্রাণবন্ত। ছোট ছোট বাক্যে তিনি তার ভাবনা তুলে ধরেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক, অধ্যাপক এবং কৃষি অর্থনীতিবীদ। গবেষণার জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার এবং একুশে পদকও পেয়েছেন। আমার বিশ্বাস তাঁর অব্যাহত গবেষণাকর্ম দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে। ড. জাহাঙ্গীর আলমের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। এই বইয়ের বহুল প্রচার হউক, এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
ড. জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির এককালীন সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে এম. এসসি এবং ১৯৮৩ সালে নিউজিল্যান্ড-এর কেন্টারবারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে একই বিষয়ে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভকরেন। ১৯৯৮ সালে তিনি নিউজিল্যান্ড-এর লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।
একজন কৃতি গবেষক, প্রাবন্ধিক ও সৃজনশীল লেখক হিসেবে ড. আলম অত্যন্ত সুপরিচিত। ইতিমধ্যে দেশে ও বিদেশে তার দেড় শতাধিক গবেষণা নিবন্ধ ও পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি দুই শতাধিক জনপ্রিয় নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং কয়েকটি গবেষণা জার্নাল ও কর্মশালার কার্যবিবরণী সম্পাদনা করেছেন। ১৯৮০ সালে তিনি কৃষি উন্নয়নে রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার এবং ২০০৪ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব এগ্রিকালচার প্রদত্ত ড. এস ডি. চৌধুরী স্বর্ণপদক লাভ করেন। গবেষণা ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২০ সালে 'একুশে পদক'- এ ভূষিত হন।
কর্মজীবনে ড. আলম শস্য খাত ও শস্য বহির্ভূত কৃষি খাতের উপর ব্যাপক আর্থ-সামাজিক গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এছাড়া পল্লী উন্নয়ন, গ্রামীণ আয় বণ্টন, দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থাসমূহের প্রভাব, ভূমি সংস্কার, সেচ ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং গ্রামীণ মহিলাদের আয় ও কর্ম সংস্থান বিষয়ে অনেক সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের একজন সদস্য-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গবেষণার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতার কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে পাঠদান করেছেন এবং উচ্চতর গবেষণার সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি মাহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ এর উপাচার্য হিসেবে চার বছর মেয়াদে কর্মরত ছিলেন।
ড. আলম ১৯৫২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আলহাজ্ব ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং আলহাজ মোছাম্মাৎ তহুরা বেগম-এর একমাত্র সন্তান।