১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
আরো দেখুন
১০% ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক পুরো জানুয়ারি মাসজুড়ে বই ও পণ্যে বিকাশে মাত্র ৬০০৳+ পেমেন্টে সর্বোচ্চ ১০০৳ পর্যন্ত! পুরো ক্যাম্পেইনে ক্যাশব্যাক পাবেন ১৫০৳ পর্যন্ত!*
অনলাইন বাণিজ্য মেলায় আপনার পছন্দের পণ্যে ৭৫% পর্যন্ত ছাড়! বছরের শুরুতেই সেরা ডিল, রকমারি অনলাইন বাণিজ্য মেলা, ২০২৬
ইসমত চুগতাইরে চিনছিলাম তার ‘লিহাফ’ বইটা দিয়া। যিনি আমারে বইটা দিছিলেন, তিনি চাইতেন আমি ইসমতরে শুধু মান্টোর সমসাময়িক কেউ হিসেবে না চিইনা আলাদা একজন লেখক হিসেবে চিনি। আলাদা একটা এনটিটি। সেই চেনার জার্নির জের ধইরাই এই ইন্টারভিউর কাছে আসা। উনি এইখানে অনেক কথার জবাব দিছেন নিজের মতো কইরা, আবার অনেক জায়গায় হয়তো ঘুরায়া ফিরায়া একই কথা কইছেন। সেই একই কথা কওয়াটা আমার কাছে তার একটা জেদ মনে হইছে। তার লেখাগুলার মতোই, তার আলাপের মাঝেও সেই জেদটা এড়ায় যাওন যায় না। তিনি নিজেই নিজেরে বারবার বেমানান হিসাবে তুইলা ধরছেন। তিনি কখনো কোনো সংগঠনে টিকতে পারেন নাই কেন– সেইটার কারণ হিসাবেও তিনি তার অতি খোলামেলা হওয়ার স্বভাবটারে আগায় রাখছেন। ইসমত খোঁচা দিতে জানেন। তার লেখাতেও, ইন্টারভিউতেও। সেই খোঁচা দেয়ার জন্য সাহস দরকার হয়, আর সেই সাহস তার ছিল। তবু কেন তিনি লিহাফের পর থাইকা লেখায় আগের মতো খোলামেলা হইতে পিছপা হইছেন, সেইটা আমার মাথায় ঢোকে নাই। তাইলে কি তার সাহসেরও একটা পরিসীমা ছিল? এই ইন্টারভিউর অনেক জায়গায় তারে কিছু কিছু বিষয়ে, বিশেষ কইরা সাহিত্যের দিকটায় পিউরিটান বইলা ভুল হইতে পারে। মনে হইতে পারে, তিনি বেশ কিছু লেখারে হালকা বা সস্তা বইলা উড়ায় দিতে চাইছেন। তবে পুরাটা পড়লে খেয়াল হয়, হয়তো তিনি সবসময় এক্সিলেন্সের দিকে ছুটতে চাইছেন। নিজের লেখার ক্ষেত্রেও, অন্যের লেখার পাঠক হিসাবেও। তার নিজেরে নিয়া একটা অন্যরকম অহঙ্কার ছিল। কিন্তু অহঙ্কারটা তারে কখনো ‘বড় লেখক’ হইবার তকমাতে রাখে নাই তার নিজের কাছেই। তিনি বরং অন্যরকম কেউ হয়ে বেশি ভালো ছিলেন। লেখার সাবজেক্টের জন্য তিনি কল্পনার আশ্রয় কম নিছেন, বরং আশপাশ দেখার চোখটারে ঘষামাজা কইরা তুলছেন। চেনা গণ্ডি, চেনা মানুষগুলা বাইরের পরত ছাইড়া তার লেখায় ধরা দিছে। নিজের মায়ের কাছ থাইকা পাওয়া অনাদর তারে প্রথম বুঝাইছে, নারীর মা বা স্ত্রী হওয়া ছাড়া একটা আলাদা পরিচয় আছে, ভাবনার জগত আছে। লেবেল দেয়া প্রোগ্রেসিভ রাইটারদের সাথে তার নিত্য ওঠাবসা ছিল, সেইটায় সন্দেহ নাই। তার লেখার ধরনেও সময়ের আগে থাকার, নারীর যৌনতারে নতুন লেন্সে এক্সপ্লোর করবার বিষয় থাকছে। অথচ তিনি প্রোগ্রেসিভ লেবাস আলাদা কইরা ধরার জন্য নিজের ব্যক্তিগত ধ্যানধারণারে অযথা একটা শেইপ দিতে চান নাই। আর তাই হয়তো সোজা বইলা দিতে পারছেন, সাহিত্যের চাইতে তার সংসার তার কাছে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এইটায় ভুরু কোঁচকানোর মতো একটা বিষয় ঘটতে পারত, কিন্তু এইটাও ভাবতে হবে যে ইসমত চুগতাই রাখঢাক ভালোবাসতেন না। তিনি তার প্রায়োরিটি তার মনমর্জিমতো বাইছা নিতে জানতেন। লেখক হিসাবেও, ব্যক্তি হিসাবেও। এবং অবশ্যই, একজন নারী এবং নারীবাদী হিসাবেও।