20 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 90
“বাঁকাউল্লার দপ্তর" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ
যতদূর সন্ধান পাওয়া যায়, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ক্রাইম
কাহিনি হলাে পুলিশের দারােগা বাঁকাউল্লার কীর্তিকলাপ। “বাঁকাউল্লার দ
বাঁকাউল্লার দপ্তর আঠারো'শো শতকের ৪০ দশকের কিছু ক্রাইম কাহিনী নিয়ে লেখা একটা বই। বইটিতে মোট গল্প আছে ১২টা। আহামরি তেমন কোন থ্রিল কিছু না থাকলেও যখন চিন্তা করবেন এসব সত্য ঘটনা সাথে সময়কালটা বিবেচনায় এনে পড়লে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করা যাবে। আমি যেটা করেছি আরকি। বাঁকাউল্লার মূল লেখক সম্বন্ধে ধোঁয়াশা আছে। কেউ বলেন বাঁকাউল্লা ওরফে বরকতউল্লা খাঁ-এর নিজের গোয়েন্দা জীবনের ঘটনা অথবা কারো মতে এসব বানোয়াট। ধারণা করা হয় প্রিয়নাথের "দারোগার দপ্তর"-এরও আগেরকার বই এটি। তবে এসব নিয়ে জলঘোলা করার প্রয়োজন নেই। কারো ইচ্ছা হলে ভূমিকাটা পড়ে নিবেন বইয়ের। এখন আসি বইয়ের মুল অংশে।
মোট ১২টা তদন্তের কথা গল্পাকারে লিপিবদ্ধ হয়েছে এই বইটায়। ছোট ছোট গল্পের প্রতিটার আসলে রিভিউ দেয়ার মত কিছু নেই। সময় কাটানোর জন্য বেশ একটা বই। এই বইয়ের লেখক যেই হোন না কেন তার সে সময়কার আইন-কানুন সম্বন্ধে স্বচ্ছ একটা ধারণা যে ছিল তা বই পড়লেই বোঝা যাবে।
মুলত আমার কাছে ভীষণ ভালো লাগার মুল কারণ, এর আবহকাল। বাংলার অতিত-এর যেকোন সময়ের ঘটনাই আমার ভালো লাগে। সে কালে মানুষের জীবন-ধারা, ধর্ম-বিশ্বাস, রাস্তা-ঘাট, যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় বরাবরই আমাকে টানে। আর এই বইতে এসবের তো অভাব নেই-ই তার উপর যোগ হয়েছে ক্রাইম-গোয়েন্দাগিরি, মানে একবারে জমে ক্ষীর।
বাঁকাউল্লা একজন খাঁটি গোয়েন্দা ছিলেন। তার অভিনব কায়দার তারিফ করতে হয়। তদন্ত করতে গিয়ে একদম তিনি মুল অভিযুক্তের বাড়িতে আতিথ্য পর্যন্ত গ্রহন করতেন। ছিলেন চমৎকার বহুরূপি। যেকোন পরিবেশে মিশে যেতে পারতেন। এতে করে নানান অপরাধের গোমর তার কাছে প্রকাশ হয়ে যেত।
মোটামুটি সবগুলো গল্পই ভালো ছিল তবে তার মধ্যে "রায় মহাশয়", "দেওয়ানজি", "বহুরূপী", "উমোকান্ত" আর "নিস্তার"টা বেশী ভালো লেগেছে। তার মধ্যে উমোকান্তটাই আমার মতে সেরা। একদম শিউরে ওঠার মত গল্প।
বইটি পুরো সাধু ভাষায় লেখা তাই কিছু কিছু শব্দ বুঝতে সমস্যা হয়েছে আর পত্রালাপগুলো সব মাথার উপর দিয়ে গেছে। মাহবুবুল ইসলাম স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ একদম দুর্বোধ্য শব্দগুলোয় টিকা সংযোজন করে তার সহজ অর্থ দিয়ে দেয়ার জন্য। যাই হোক, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ক্রাইম কাহিনী হিসেবে বইটি স্বার্থক এবং সংগ্রহে রাখার মত একটা বই।
পরিশেষে মাহবুবুল ইসলাম স্যার আর ভূমিপ্রকাশকে অশেষ ধন্যবাদ এইরকম হারিয়ে যেতে বসা একটা বইকে পুনরোজ্জীবিত করার জন্যে।