বিস্তৃত পানিরাশি, সুদূর ওপারের সূর্যডোবা আকাশ, আসন্ন সন্ধ্যার নেমে আসা ধূসর ছায়া, এপারের ডুবন্তপ্রায় বাঁধে দুশ্চিন্তা আর সূক্যে দাঁড়িয়ে থাকা একসারি বয়োঃজ্যেষ্ঠ মানুষ- সব মিলিয়ে মনের মধ্যে কী এক শূন্যতা বয়ে নিয়ে এলো যে সেখানে বেশিক্ষণ দৃষ্টি ধরে রাখা সম্ভব হয়ে উঠলো না। মানুষের জীবন ক্ষণে ক্ষণে কেন এমন হয় যে এতসব মানুষের ভিড়েও নিস্তব্ধতায় তামাম অস্তিত্ব অসার, একাকি, শূন্য, অর্থহীন ঠেকে? জীবন সত্যি কি নিরর্থক? এখানে বেশি দিন থাকা যায় না, থাকা হয় না কারোর; সব ছেড়ে ছুঁড়ে পারি জমাতে হয় ওপারে, একাকী। সেজন্যই কি এত মায়া, এত আচ্ছন্নতা, এত শূন্যতা, এত হাহাকার- যা এতসব মানুষের মধ্যেও নিভৃতানুভবে সময় সময় এমন প্রকট হয়ে ওঠে? এরা সবাই কি সারিবদ্ধ একনিবিষ্টতায় এখানে দাঁড়িয়ে সে কথাই ভাবছেন, নাকি নানাজন ভেতর-বিচ্ছিন্ন নিমগ্ন আছেন বিচিত্র যত জাগতিক চিন্তালোকে: কেউ সংসারের নিত্য নৈমিত্তিক চাল, ডাল, নুন, তেলের চাহিদার সাথে এই ক্রম ফেপে ফুঁসে ওঠা পানিরাশি-প্রভাবের আগাম অসামঞ্জস্য সম্ভাবনার হিসেব-গরহিসেবের আন্তঃহিমসিমে, কেউ আজ রাতে খাল-পারটি দেবে গেলে আগামীকালের মৎসাহবণের