বৃষ্টির রঙ কী দেখা যায়! যায়। আপন অনুভূতিতে যেভাবে, যে রঙে তাকে ভাবা হয় সেটাই বৃষ্টির রঙ। রঙিন অনুভূতির সাথে সে। নিয়ে যায় নির্জন কোন প্রকোষ্ঠে, স্মৃতির খুব কাছে অথবা আকুল হয়ে ভাবতে থাকা যদি সে পাশে থাকতাে। যার না থাকায় অভ্যস্ত জীবন বৃষ্টির রঙ ধূসর বর্ণে তাকেও কষ্ট দিয়ে যায়। আবার পরমুহূর্তেই মনে হয় আসলেই কী মানুষের প্রয়ােজন আছে অন্য মানুষের সংগ; যখন তাকে ছুঁয়েও ধরা যায় না, দৃষ্টিসীমার মাঝে থেকেও যে রয়ে যায় আড়ালে সে চার দেয়ালের কাঠামােতে বন্দী থাকার নয়। সে পাখি, সে প্রজাপতি, সে পুষ্পরেণু-- সে অনবরত ছুটে চলেছে তার শরীরটাকে ফেলে। সে আসলে চরমভাবে একা। তার জীবনের প্রতিটা ঘটনা মুছে ফেলে অন্য আরেক ঘটনাকে। স্মৃতির পাহাড় ক্রমশ উঁচু হতে থাকে আমরণ বিস্তৃত মনােভূমিতে। মানুষ কেবলই বাস করে তার বর্তমানে যেখানে তার নিজস্ব নয় কিছুই। অনুভূতির প্রগাঢ়তা ধুয়ে দিয়ে যায় সকল সময়কে; থাকে কেবল মুখরিত রিমঝিম ঝিম ।
পরিচয় দেবার মতাে শুধু নামটিই আছে বলে মনে করেন। জন্মেছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ থানার জামতৈলে। দক্ষিণদুয়ারী, যে ঘরটিতে জন্ম হয়েছিলাে তার সামনে একটি আমগাছ ছিলাে- জন্ম থেকেই তার সাথে পরিচয়। মিষ্টি আম দেয়া সেই গাছের ডালে দড়ি ঝুলিয়ে বানানাে দোলনায় ঝুলতে ঝুলতেই যেন পার হয়েছে তার শৈশব। প্রতিটি মানুষের আবেগের কাছে পরাজিত সেই শৈশবের পুরােটা জুড়েই আছে বাবা-মা আর ভাই-বােনদের আদর। এখন ব্যস্তযুগে চলছে সেই নিখাদ প্রেমের আকাল। ভালােবাসার শৈশবটাকে তাই আঁকড়ে ধরেন। প্রায়ই তখনই বুকের ভিতরটা ফাঁকা লাগে। বিষন্নতা ছবির মতাে উঠে আসে তার কবিতায়। তবে বাস্তবতার কাছে ঋণী থেকে গেছেন প্রতিটি কবিতার একেকটি বােধনের জন্য। লেখাপড়ার হাতেখড়ি জামতৈল গ্রামে। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়ােজিত আছেন।