30 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 158
মিস কেন্টন খানিক থামলেন। তারপর আবার বলা। শুরু করলেন, কিন্তু তার মানে এই নয়, মাঝে মাঝে কোনাে নির্জন মুহূর্ত আসে না। অবশ্যই আসে; তখন। নিজের সাথে কথা বলা চলে, জীবন নিয়ে আমি কী। ভুল
শেষ করলাম কাজুও ইশিগুরোর বুকারজয়ী উপন্যাস ‘দ্য রিমেইন্স অব দ্য ডে’। দীর্ঘ সময় নিয়েই পড়লাম বইটি এবং শিখলাম অনেক কিছু। পেশাদারিত্ব, কর্মস্থলে ‘মানানসই’ মর্যাদা, নিজের পেশাগত অস্তিত্বে বাস, পেশার প্রতি বিশ্বস্ততা ও সহকর্মীদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় নতুন করে জানলাম, উপলব্ধি করলাম এবং আত্মস্থ করার অঙ্গীকার করলাম। লেখক দেখিয়েছেন, একজন মানুষের ভেতর একই সঙ্গে একাধিক ভিন্ন ভিন্ন সত্ত্বার অস্তিত্ব কিভাবে লড়াই করে যায় এবং একজন পেশাদার মানুষ তার ‘পেশাগত’ অস্তিত্বে কিভাবে ডুবে থাকে।
আবার ভিন্ন আঙ্গিকে দেখলে সেখানে একজন কর্মনিষ্ঠ ও ‘আদর্শ’ মানুষের নিঃসঙ্গতার নির্মমতা উপলব্ধি করা যায়। সে অত্যন্ত সফলভাবে আড়াল করে গেলেও তাঁর সংবেদনশীল মনের আবেগ প্রশ্রয়ের প্রত্যাশায় কলরব করে যায় অবিরাম। পুরো বইতে লেখক নিরাবেগ বর্ণনায় আবেগের সেই ছায়া দীর্ঘায়িত করে যান। পাঠক আবেগের অনুরণন টের পায় কিন্তু অস্তিত্ব খুঁজে পায় না।
বইটা শেষ করার পর আমার মনে হয়েছে, এই বই ও তার লেখককে একটি ভাস্কর্য ও ভাস্করের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ঠিক যতটা পেছনে যাবেন ততটা স্থুল ও আকর্ষণহীন মনে হবে আর যত সামনে এগুবেন তত বেশি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ভাস্করের শেষ আঁচর পর্যন্ত যেমন শিল্পের সুষমা লুকিয়ে থাকে, কুজিও ইশিগুরোও তেমন একদম শেষে এসে মন ও মননের ‘কিমিয়া’ স্পষ্ট করেছেন। পাঠক তখন ফেলে আসা ধাপগুলোর দিকে তাকিয়ে বলে, ওহ! এজন্য লেখক সেখানে একটু থেমে ছিলেন, সাধারণ সৌজন্য, সামান্য প্রশ্রয়, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সম্ভাবনাকে এভাবে উল্টে-পাল্টে দেখিয়েছেন আর একটি অর্থহীন বাক্যের ভেতর এত রকম অর্থ খোঁজার চেষ্টা করেছেন! একটি লুকানো-ছুপানো অব্যক্ত দীর্ঘ আবেগকে কয়েকটি অবাধ্য দীর্ঘ শ্বাস ও দ্বিধা মিশ্রিত বিব্রত বাক্যে কি চমৎকারভাবেই না ‘প্রাণময়’ করে তুলেছেন লেখক। যাতে ভাষা পেয়েছে অগণন ‘ভদ্রপ্রাণ’ প্রেমিক হৃদয়ের আঁকুতি।