'বাংলা ছাড়ো' সিকান্দার আবু জাফরের একটা কবিতা সংকলন।এই কবিতাগুলো ১৯৭১ সালের আগে লেখা হয়।বইয়ে ওনার লেখা মোট ৩০ টি কবিতা আছে।কবিতাগুলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা।বইটিতে দেশ নিয়ে লেখা বেশ কিছু কবিতা আছে।অন্যান্য কবিতার চেয়ে দেশ নিয়ে লেখা কবিতাগুলো বেশিই ভালো লেগেছে।বইয়ের মোট ৩০ টা কবিতার মধ্যে ১৫ টা কবিতা বেশি ভালো লেগেছে।এর মধ্যে বিশেষ করে বলতে হয় 'ফেউ','কি লাভ অমর হয়ে','বাংলা ছাড়ো' এবং 'গরবিনী মা-জননী'র কথা।
'কি লাভ অমর হয়ে' কবিতার শেষ কটা লাইন বেশ লেগেছে।
“কেউ কি অমর হয়?
কেউ কি অমর হবে!
হয় যদি,কেন হবে?
একটি উজ্জ্বল ভোরে গত রাতের খোঁপার ফুল
কেন দিবে স্মৃতির যন্ত্রণা,
জীবন বইবে কেন নিরন্তর শবদেহ কারো?”
'ফেউ' কবিতাটা লেখা একজন পথশিশুকে নিয়ে যার নাম কেউ জানে না।একজন পানওয়ালা তাকে ফেউ বলে ডাকে,সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় ফেউ।ফেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে পায় না।
“ফেউ জানেনা কখন কড়া রোদে সারা আকাশ ধুধু
কখন গাছে ক্লান্ত সুরে ডাকে সঙ্গীবিহীন ঘুঘু
কখন বাতাস শান্ত কোমল হতে
রং ছুড়ে দেয় ফুলের জানালাতে,
রং ধনুকে ঘোড়ায় চড়ে মেঘ-বিকেলের দৃপ্ত রাজকুমার
খুঁজতে আসে মাটীর ঘরে রূপকুমারী ময়নামতীর হার।”
সে বরং জানে প্রকৃতির রুক্ষ রূপ।
“জানে কখন বৃষ্টি সওয়ার কালবোশেখী জাগে
ফাঁকা পথের ঘাসে কখন উত্তরী-বায় হিমের শিশির ঝরায় অনুরাগে,
আর জানে রাত গভীর যখন বন্ধ কোন দোকান ঘরের পাশে
জড়িয়ে নিতে তাকে হঠাৎ বুড়ী-ঘুমটি আসে।”
'গরবিনী মা-জননী' কবিতাটা ভীষণ ভালো লেগেছে এর উপমার ব্যবহারের কারণে।কখনো তিনি সবুজ ঘাসকে তুলনা করেছেন দেশমায়ের 'সবুজ তৃণের আঁচল' হিসেবে।কখনোবা জোনাকি পোকাকে সাঁঝ প্রদীপের সলতে জ্বলার সাথে তুলনা করেছেন।
“কার বিকেলের পালকি চলে
রং ধনুকের রঙ সড়কে
সাঁঝ প্রদীপে প্রত্যহ কে
জোনাক চোখের সলতে জ্বালে।
রাতের কপাট-বন্ধ ঘরে
হাসনু হেনার জানলা খুলে
ঝিঁঝিঁর লিপি পাঠায় কে মা
মৌন তারার চক্রবালে।।”
'বাংলা ছাড়ো' কবিতায় তিনি দাবি করেছেন বাঙালিদের সায়ত্তশাসনের।
“আমার কাঁধেই নিলাম তুলে
আমার যত বোঝা;
তুমি আমার বাতাস থেকে
মোছো তোমার ধূলো,
তুমি বাংলা ছাড়ো।”
সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালোই লেগেছে বইটা।যদি বিস্মৃতপ্রায় লেখকদের বই পড়ার পাগলামি থাকে তবে চাইলে পড়তে পারেন।ধন্যবাদ।
বই:বাংলা ছাড়ো
লেখক:সিকান্দার আবু জাফর
রেটিং:৩.৮/৫
-০৫মে,২০২৩