32 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 135
"হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ"বইটির মূখবন্ধ:
হুমায়ূন আহমেদ এক নক্ষত্রের নাম। তার অকালমৃত্যু সমকালীন বাংলা সাহিত্যকে অনেকটা নিঃস্ব ও স্তম্ভিত করে দিয়ে গেছে। তার বিকল্প
ময়মনসিংহ স্থানীয় থানায় ডাক পড়লো হুমায়ূন আহমেদের। অস্বস্তি নিয়েই গেলেন তিনি। গিয়ে দেখলেন, এক যুবক আত্মহত্যা করেছে, হাতে ছিল হুমায়ূন আহমেদের একটি বই। ঘটনাটির বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক বলেছিলেন,
আমার লেখা কে পড়লো না পড়লো, কোথায় বিরূপ সমালোচনা হলো, আমার লেখা হালকা না ভারী, এ নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই।'
নিজের লেখা নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের বক্তব্য সবসময়ই এমন ছিল। অবলীলায় নিজের লেখাকে সস্তা ও বাজারি বলতেন। পাঠককে কেবল আনন্দ দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। তাঁর বই পড়ে পাঠকরা হাসতে শিখেছে, কাঁদতে জেনেছে - জ্ঞান বিতরণ তার চাওয়া ছিল না কখনোই। হুমায়ুন আজাদ তার উপন্যাসকে 'অপন্যাস' বলতেন, এতেও লেখকের তেমন প্রতিক্রিয়া ছিল না।
আধ্যাত্মিক আর রহস্যময় বিষয়ের প্রতি হুমায়ূনের আগ্রহ ছিল সবসময়। নিজেও নানাভাবে নীরিক্ষা করতেন এসব নিয়ে। ছাত্র বয়সে বড়মামার কাছ থেকে একবার শিখলেন, একাগ্র মনে 'আল্লাহু' জপলে একসময় নিজেকেই নিজে দেখা যায়। ছাত্রহলে একাকী সেই পরীক্ষা করতে গিয়ে ভৌতিক অভিজ্ঞতা হলো তাঁর। মনে মনে অন্যকে সালাম দিয়ে জবাব পাওয়া, নুহাশ পল্লীতে নারীকণ্ঠ শুনতে পাওয়া - এমন বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা আছে তার। বিশ্বাস করতেন সৃষ্টিকর্তা কেই আছেন, জগতে মানুষের ক্ষুদ্র জ্ঞানের বাইরেও কিছু আছে।
বাংলাদেশের পাঠকদের যখন 'নিজেদের প্রিয় লেখক' বলতে কেউ ছিলেন না, তখন সুনীল বা তৎকালীন কলকাতার অনেক লেখককে ছাপিয়ে এলেন হুমায়ূন আহমেদ। চব্বিশ বছর বয়সে খান ব্রাদার্স থেকে প্রকাশ পেল 'নন্দিত নরকে'। দাম তিন টাকা। সে বইয়ের প্রচ্ছদ করলেন অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছ'মাস কেটে গেল, বই আর বিক্রি হয় না। লেখক ধরলেন কাইয়ুম চৌধুরীকে। অন্তহীন ঘোরাঘুরির পর কাইয়ুম চৌধুরী যেদিন অপূর্ব প্রচ্ছদ তৈরী করে দিলেন, সেদিন যুবক লেখককে ডেকে বলছিলেন,
'আপনার হবে। না, বলা উচিত আপনার হয়েছে।'
তাঁর যে হয়েছে, তাতে সন্দেহ প্রকাশ করার কোনো অবকাশ নেই। বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সাধারণ জীবনকে যেভাবে তিনি তুলে ধরেছেন, সেই উপস্থাপনার জন্য অপেক্ষায় ছিল এদেশের পাঠক সমাজ। এ দেশের এক প্রজন্ম বেড়েই উঠেছে হুমায়ূনের কালে। তাদের প্রত্যেকের হুমায়ূন সাহিত্য নিয়ে নিজের বলার মতো গল্প আছে। হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণে আপনজন হারানোর মতোই শূন্যতার ব্যাথা বেজে ওঠে কোটি পাঠকের বুকে - এখানেই হুমায়ূনের সার্থকতা।
এসকল আলোচনা নিয়েই হাসান হাফিজের সম্পাদনায় 'হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ'। লেখকের মৃত্যু, লেখা, একত্রে কাটানো টুকরো সময় নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন আসাদুজ্জামান নুর, আলী যাকের, জুয়ের আইচ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়৷ শীর্ষেন্দু মুখ্যোপাধ্যায়, আনিসুজ্জামান, নাসির আলী মামুন প্রমূখ। নির্মলেন্দু গুণের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্মৃতিকথা থেকে শুরু করে ড. তপন বাগচীর সমালোচনা - সবই স্থান পেয়েছে বইটিতে।
বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে হুমায়ূন অনুরাগী পাঠকদের। তবে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে এই স্মৃতিকথামূলক বইগুলো ছাপানো হয়েছে খুব হেলাফেলা করে। কোনোরকম প্রুফরিড ছাড়াই, কেবল লাভের উদ্দেশ্যেই মনে হয় প্রকাশক বইটি পাঠকদের সামনে হাজির করেছেন। বইয়ের অনেক বাক্য, বানান কষ্ট করে বুঝে নিতে হয় - এতোটাই ভুলে ভরা।
বইঃ হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ
সম্পাদনাঃ হাসান হাফিজ
প্রকাশনায়ঃ মাটিগন্ধা
প্রকাশকালঃ ২০১৩
মূল্যঃ ৩০০ টাকা
পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২২৩