‘আমি যে ঘরে থাকি সেখানে কোনো দরজা নেই, জানালা নেই। আপনার ঘরের দরজা, জানালাগুলো আমার অনেকদিন মনে থাকবে। বিশ্বাস করেন, এভাবে জানালা ভেঙে আমি আসতে চাইনি।’
এভাবেই গল্পবলা শুরু করেন রেজাউল ইসলাম হাসু। এরপর তিনি সত্যি সত্যি পাঠকের ভেতরে প্রবেশ করেন অব্যর্থ এক তির হাতে। গল্প যত এগোতে থাকে, পাঠকের ভেতর উত্তেজনা বাড়ে। আঘাতটা শেষ পর্যন্ত তিনি করেন না। তিরটা টেনে গুটিয়ে নেন, পাঠক তাতে তৃপ্ত হতে পারেন না। এভাবেই প্রতিটা গল্পে তিনি পাঠকের অতৃপ্তি নিয়ে খেলেন। খেলাটা শিল্পীর, তাই তো এই অতৃপ্তির মধ্যেই যত সুখ।
ভাষা দিয়ে গল্প তৈরি করেন এই লেখক, ঘটনা সেখানে উপলক্ষ মাত্র। সরস গীতল গদ্য, কিন্তু আবার নির্মেদ। নাগরিক বেদনা, নারীর বেদনা, জনজীবনের গল্প-- কিন্তু শেষ পর্যন্ত গল্পগুলো ব্যক্তিমানুষের। গ্রন্থিত নয়টি গল্পে লেখকের বিষয়বৈচিত্র্য ও ন্যারেটিভের অভিনবত্ব পাঠককে মুগ্ধ করবে, ভাবাবে আবার কখনো কখনো বিবশ করবে।