5 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 160TK. 138 You Save TK. 22 (14%)
শিকারে গিয়ে প্রকাণ্ড এক মদ্দা হাতির আক্রমণের মুখে পড়লেন ক্যাপ্টেন হাচিসন। এখন প্রাণ বাঁচানোই দায়। জমবির ভয়ানক সিংহগুলো একের পর এক মানুষ তুলে নিয়ে যাচ্ছে। শিকারি রাশবি কি পারবেন এদে
'শয়তানের ডেরা' বইটির প্রচ্ছদ আমার ফেভারিট। লাল কমলা হলুদে মেশানো একটা রঙিন কাজ। ইশতিয়াক হাসানের অনুবাদে ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটিতে মোট আটটি কাহিনী আছে, যেগুলোর মূল লেখনীতে আছে গ্লাসফোর্ড, রাশবি, লরিং, হাচিসন থেকে মারভিন স্মিথ আর জিম করবেটের মত ভারী নামও।
সবগুলো কাহিনী সমান আকর্ষণীয় না। আমি প্রথমেই বিশেষ করে বলবো জি জি রাশবির "ভয়ংকর মানুষখেকো"র কথা। এটা মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষকালে তানজানিয়ার জমবি জেলায় আতঙ্ক ছড়ানো "Maneaters of Njombe" এর ওপর ভিত্তি করে লেখা। মোট পনেরোটি সিংহ পনেরো বছর ধরে জমবি জেলার পনেরোশো বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে। পরবর্তীতে জর্জ জিলম্যান রাশবি নিজে এবং কিছু আফ্রিকান স্কাউটের সহায়তায় সবকটা সিংহকে যমের দুয়ারে পাঠান। কাহিনীটাতে কিছু গা ছমছমে বিবরণ আছে। বিশেষ করে যখন এক হতভাগা আফ্রিকান তার চোখের সামনেই দেখে তার সদ্যমৃতা স্ত্রীর কাটা উরু মুখে নিয়ে সিংহী বনের ভেতরে চলে যাচ্ছে - ঐ জায়গাটা আতঙ্কের ছিলো!
জে আলডেন লরিংয়ের কুমির নিয়ে লেখা "জলের শয়তান" ভিন্ন স্বাদের৷ লেখক কুমির নিয়ে এতটাই ফোবিক ছিলেন যে তাঁর মতে, "ক্যান্সার বা যক্ষ্মার চেয়ে বেশি করুণা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এই জানোয়ারদের। বিশাল আকারের একটা পরজীবির সঙ্গেই কেবল তুলনা চলে এদের...অস্বীকার করবোনা যখন এদের একটাকে মারতে পারি তখন পৈশাচিক একটা উল্লাস অনুভব করি।"
কুমিরের ঘৃণ্য ও সুবিধাবাদী আচরণ, মানুষখেকো হওয়া, সব ধরণের প্রাণীবৈচিত্র্যের জন্য হুমকি ও শয়ে শয়ে বিস্তার - সম্ভবত দায়ী লেখকের এন্টি কুমির সেন্টিমেন্টের জন্য।
এছাড়া জিম করবেটের "কুঁয়ার সিং" ('মাই ইন্ডিয়া' থেকে, আগে পড়া ছিল) ও এ মারভিন স্মিথের "বিপদের নাম বুনো মোষ" ভালো লেগেছে। ক্যাপ্টেন হাচিসনের "দানোর কবলে' হাতি শিকার করতে গিয়ে প্রায় মরতে বসার অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান হাচিসন, ছয়সপ্তাহ বিছানায় থাকার পর হাতিশিকার ছেড়ে দেয়ার পণও করে ফেলেন, যদিও আদৌ ছেড়েছিলেন কিনা জানিনা।
বাকি কাহিনীগুলো সাধারণ লেগেছে। রেটিং ৩/৫।