লেখক কতবার সুন্দরবনে গিয়েছেন জানা নেই। কিন্তু বইটি পড়লে স্পষ্টই বোঝা যায় যে লেখক সুন্দরবনকে যতটা চেনেন তা একবারের ভ্রমণে চেনা যায় না। বাঘের খোঁজে স্যারের উৎসুক দৃষ্টি ও তার বর্ণনা এই বইয়ের মূল উপজীব্য আমার দৃষ্টিতে। বাঘের বর্ণনা, বাঘের শিকারের বর্ণনা এত বেশি জীবন্ত যে পড়ার ফাঁকে দুই-একবার সতর্ক হবার জন্য পিছনে ফিরে তাকানোটা অমূলকও নয়। এই বইয়ে উঠে এসেছে সুন্দরবনের মানুষের জীবনযাত্রার কথা। প্রতিদিন বাঘ-কুমিরের দৃষ্টি এড়িয়ে জীবিকা নির্বাহের সংগ্রামের কথা। একটু অসতর্কতায় বাঘের পেটে চলে যাওয়ার লোমহর্ষক ঘটনা কিংবা সঙ্গীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেকে বাঘের মুখে তুলে দেওয়া কোন অজ্ঞাত কিংবদন্তীর কথা। সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর বর্ণনা আর সেগুলো সম্পর্কে প্রচলিত লোকগাঁথা যারা সুন্দরবন ঘুরে এসেছেন তাদের আরেকবার আর যারা কখনো যান নি তাদের প্রথমবার সুন্দরবন ভ্রমণে উৎসাহী করে তুলতে যথেষ্ট। পুরো বইয়ে বাঘকে 'বড় মামা' বলে সম্বোধন পাঠকের পাঠকে করবে আরো আনন্দময়।পুরো ভ্রমণকাহিনীতে বারবার যা উঠে এসেছে তা হলো ২০১২ এর ডিসেম্বরের কথা। লেখকের অফিশিয়াল ট্যুরের সেই স্মৃতিচারণা এই বইটিকে আরও সম্পদশালী করেছে।
এই বইয়ে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুন্দরবনে নগরায়ন নিয়ে লেখকের আক্ষেপ। পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠলেই আমাদের স্বদেশীরা সেই জায়গার প্রাকৃতিক মূল্য নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চায় না। এই অনিবার্য লালসার শিকার সুন্দরবনের কয়েকটি স্পটও। সেগুলো নিয়ে লেখকের আক্ষেপ ভাবনার খোড়াক যোগায়।