সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম কণ্ঠস্বর কবি নূরুল হুদা। জাতিসত্তার স্বরূপ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রাসঙ্গিক পৌরাণিক বাস্তবতাকে কবিতার উপাদান করেছেন তিনি। তাঁর রচিত ‘অনন্তের কাসিদা’ চার রঙে
#অনন্তের_কাসিদা
বেশ কিছুদিন ধরে কবিতা পড়ার নেশায় ডুবেছি। দিনের শত কাজের ফাঁকে ছোট্ট একটা চায়ের বিরতি আর হাতে পচ্ছন্দের একটি কবিতার বই ব্যাস মন ভালো করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
আজ কথা বলব সম্প্রতি বইমেলায় প্রকাশিত সমকালীন বাংলা কবিতার শীর্ষ কন্ঠস্বর মুহাম্মদ নরুল হুদা স্যারের "অনন্তের কাসিদা" কাব্যগ্রন্থটি নিয়ে। বইটি চিত্রত করেছেন নাজিব তারেক।
★বইটি মোট ২৯ টি অসাধারন কবিতার সমন্বয়ে রচিত একক কাব্যগ্রন্থ।
অনন্তের কাব্যগুলো:
১. জলতরঙ্গের মেহগনি কাঠে
২. বাসাবো
৩. নদ যায় নদী যায়
৪. জলের পোশাক গায়ে
৫. ঠিকানাবদল
৬. মর্মের মর্মর
৭. অধরা তারা
৮. আঁকি
৯. বায়নানগর
১০. হয়না অনাদি
১১. যাই
১২. অনন্ত উড়ন্ত
১৩. মনহংস মনহংসী
১৪. প্রতিধ্বনির প্রতিধ্বনি
১৫. মানুষ ডুবুরি ডানা
১৬. চৌকাট দাঁড়ায়
১৭. ফোটো মুহূর্তেই
১৮. ছিন্নগদ্য
১৯. বাড়ির জন্য আড়ি
২০. অহরহ
২১. লালনবরন
২২. শিশির উদিত
২৩. স্বয়ম্ভর যাত্রা
২৪. ত্রিভঙ্গখোয়ারি
২৫. তুমিই সক্ষমা
২৬. হারে না
২৭. অনন্তমন্ত্র
২৮. বেলাঘর
২৯. অনন্তের কাসিদা
★প্রিয় কিছু কবিতার লাইন:
"শুরুতেই শূণ্য শুধু
অনন্তর পূর্ণ চরাচর
শূন্যের শরীরে পূর্ণ
ঘর করে ঘর।"
(অনন্তের কাসিদা)
"সকালে সূর্যের বুকে পৃথিবী মুদ্রিত।
শস্যের সুফলা চোখে শিশির উদিত।
নীলিমার সব নদী নিঃসঙ্গ উজানি।
আঁধারের আলো বুকে গিরি সাবধানী।"
(শিশির উদিত)
"শুধু নিশীথিনী
ডুবে গেল
আমার ভিতর।
আমি তার জন্য
জাগিয়ে রাখেনি
কোনো সরোবর। "
(বেলাঘর)
"আঁধার আলোকে ডাক, আলোকে আঁধার
এই নিয়ে তরঙ্গের অঙ্গে অঙ্গে অনঙ্গ সংসার,
একার ভিতর দেখা কুহু ও কেকা,
জীবাজীবে স্বর্গে মর্ত্যে
সময়ের সঙ্গে শুধু সময়ের দেখা।"
(মর্মের মর্মর)
★বইটির প্রিন্টিং কোয়ালিটি,বাঁধাই এবং প্রচ্ছদ চমৎকার। চলন্তিকার কাজ নিয়ে নতুন করে বলার কিছুই নেই। চমৎকার এই বইটির জন্য লেখক এবং প্রকাশক দুজন অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
বই: অনন্তের কাসিদা
লেখক: মুহাম্মদ নূরুল হুদা
প্রচ্ছদ ও চিত্রায়ণ: নাজিব তারেক
প্রকাশক: রাশেদ রানা (চলন্তিকা)
মলাট মূল্য : ৫০০ টাকা