মওলানা ভাসানীর জীবন ও সংগ্রাম এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে মওলানা ভাসানীর জন্ম ও শৈশবকাল, বিবাহ ও পারিবারিক জীবন, বৃহত্তর পরিধিতে ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন, মাতৃভূমিতে ভাসানী, ভাসানীর ইউরোপ সফর, ভারতে প্রায় ৪ মাস অবস্থান, মওলানা ভাসানীর ২৪ দফা, দলকে অসম্প্রদায়িককরণ, প্রসঙ্গ শাসনতন্ত্র, যুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা, দলে দ্ব›দ্ব-বিরোধ, কাগমারী সম্মেলন, ভাসানীর গুরুত্বপূর্ণ লিফলেট, স্বায়ত্তশাসন বিতর্ক ও পাস, নতুন দল গঠনের পথে, নতুন দল ন্যাপের জন্ম, ন্যাপ পরবর্তী সময় ও অবস্থা, পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি, মৎস্যজীবী সমিতি প্রতিষ্ঠা, পাট চাষী সম্মেলন, মির্জার সামরিক শাসন, রাজনৈতিক ঘটনাবলী (১৯৫৮-৬২), এনডিএফ গঠন, ভাসানীর চীন সফর, প্রেসিডেন্ট আয়ুবের সাথে সাক্ষাৎ ও চীন ভ্রমণ বিতর্ক, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, পাক-ভারত যুদ্ধ, শেখ মুজিবের ৬ দফা, জাতীয় প্রশ্নে ন্যাপ, পিডিএম গঠন, রবীন্দ্র সংগীতের সমর্থনে ভাসানী, ন্যাপের অভ্যন্তরীণ মত-বিরোধ, ঊনসত্তরের সশন্ত্র কৃষক গণঅভ্যুত্থান, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাককালে, ১৯৭১-এর মার্চে, ১৪ দফা ঘোষণা, চট্টগ্রামে মওলানা ভাসানী, ভারতে দশমাস, স্বাধীন দেশে মওলানা ভাসানী, পরিস্থিতির মোকাবিলায়, প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন, জনসভায় ভাষণ, প্রথম সাধারণ নির্বাচন, ভাসানীর অনশন ধর্মঘট, জোট গঠন, দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া, হুকমতে রাব্বানিয়া সমিতি গঠন, ন্যাপের ভাঙন এবং ফারাক্কা লংমার্চ। ফলে সংক্ষেপে ভাসানী জীবনের অনেকগুলি বিষয়ে জানা যাবে। বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও বাম ধারার রাজনীতি অনুশীলনের জন্য মওলানা ভাসানীর জীবন ও সংগ্রাম গ্রন্থটি ভূমিকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
আমজাদ হোসেন আমজাদ হোসেনের জন্ম ১৯৪২ সালে যশোর জেলায়। তাঁর পিতা মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান, মাতা খোদেজা খাতুন। ছাতিয়ানতলা প্রাইমারী স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ শুরু। যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন। যশোর মাইকেল মধুসুদন কলেজ (সরকারী) থেকে আইএ ও বাংলা অনার্সে উত্তীর্ণ। অনার্স পরীক্ষা দেন যশোর সেন্ট্রাল জেল ও রাজশাহী সেন্ট্রাল জেলে থাকা অবস্থায়। কলেজে পড়াকালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। জেলা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালের শুরুতে যোগ দেন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টিতে। প্রথমবার তিনি জেলে যান পাকিস্তান রক্ষা আইনে গ্রেফতার হয়ে ১৯৬৭ সালে। প্রায় ৮ মাস যশোর ও রাজশাহী সেন্ট্রাল জেলে থাকেন। দ্বিতীয়বার তাঁকে জেলে থাকতে হয় কিছু সময়। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেলিনবাদী) এর সম্পাদক ছিলেন। আশির দশকের মধ্যভাগ থেকে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন এবং লেখালেখি চালিয়ে যেতে থাকেন । বহু বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেছেন।