মুক্তির জন্য কেন আমাদের যুদ্ধ করতে হয়েছিল?
কেন বাংলার দামাল ছেলেরা ঘরের মায়া ফেলে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল ?
টানা ন’মাস যুদ্ধ করেছিল বীর বাঙালি। মা বোনের সম্ভ্রমহানি আর সমুখযুদ্ধে প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা।
আমাদের এই মুক্তি বা আমাদের এই স্বাধীনতা শত শত বছরের সংগ্রামের ফসল। আমাদের সংগ্রাম ছিল অত্যাচারী জমিদারদের বিরুদ্ধে। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে। সংগ্রামে অংশ নেয়া মুসলমান-হিন্দুরা নানা অত্যাচারে যেমন ছিল প্রতিবাদী, তেমনি অস্ত্র হাতে লড়াই করে গেছে বছরের পর বছর।
দুশো বছরের ইংরেজ শাসন-নির্যাতনের পর আমাদের নির্যাতন শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানিরা। সেই নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে বাঙালিরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে এগিয়ে আসেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বাঙালিরা আন্দোলনে যেন প্রাণ পায়।
পশ্চিম পাকিস্তানিদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র একের পর এক গুঁড়িয়ে তছনছ করে দেন টুঙ্গিপাড়ার সেই খোকা। পরবর্তীতে বাঙালিরা তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভ‚ষিত করেন। তাঁর সঠিক দিক নির্দেশনায় বাঙালিরা সংগ্রাম চালিয়ে যায়।
একাত্তরের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু কালজয়ী ভাষণ দিলেন জাতির উদ্দেশ্যেÑ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
লিখিত ছিল না স্বাধীনতার সেই মহাকাব্য। পশ্চিম পাকিস্তানিদের ঘুম হারাম করে দেয়া সেই ভাষণের পরই শুরু হল যুদ্ধ। ন’মাসের যুদ্ধের পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা কুকুরের মত লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিল। বিজয় হল আমাদের।
আমাদের সেই সংগ্রামের ইতিহাস জানতে হবে। জানাতে হবে তরুণ প্রজন্মকেও। তবেই দেশের প্রতি ভালোবাসা জন্মাবে। শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠবে সেই বীরদের প্রতি। যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে একটা স্বাধীন পতাকা আমাদের এনে দিয়েছিল। সেই সোনার ছেলেদের সারাজীবন জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
এই বইয়ের একটি রচনাও যদি কোনো এক কিশোর বা কিশোরীর মনকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশের প্রতি মমতা জাগাতে পারে সেটাই সার্থকতা।