নামঃ অ্যাগামেমননের কন্যা
লেখকঃ ইসমাইল কাদারে
অনুবাদকঃ রওশন জামিল
প্রকাশনীঃ কথাপ্রকাশ
জনরাঃ নোভেলা
মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা
প্রকাশকালঃ একুশে বইমেলা ২০২২
একটা সময়ে আমাদের নীতিকথা ছিলো “ ভাত দে নয়তো মানচিত্র চিবিয়ে খাবো “ অথবা সমাজ বা রাষ্ট্রে বিপ্লব শব্দটিকে বেশ আড়ম্বর কিংবা অর্থবহ ভাবা হতো । কালের বিবর্তনে আজ নীতি বাক্য, স্লোগান কিংবা জয়ধ্বনি তে পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো সেখানে অধিকার কিংবা ন্যায় প্রতিষ্ঠার কথার থেকে চাটুকারিতা কিংবা তোষামোদকেই এখন প্রধান নীতি বাক্য মনে করা হয় । মাঝে মাঝে যারা সত্যের বিপরীত পথে না যেয়ে সত্যকে ধরে রেখে বিপ্লব কিংবা প্রতিরোধ তৈরি করতে চান তারাই পড়েন সমাজ ও রাষ্ট্রের রোষানলে । তাদের কেউ হয় বাস্তুহারা বা সমাজচ্যুত অথবা শিকল পড়িয়ে নিক্ষেপ করা হয় কয়লা খনির অতল গভীরে যেখানে তাদের সাথে দেখা হয় একদল পুড়ে যাওয়া ভস্মীভূত জ্বালানির দলের সাথে । যারা নিজেরা দ্বগ্ধ হয়ে বিত্তবান আর সেই রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের জীবন আলোকিত করে যাচ্ছেন ।
“ অ্যাগামেমননের কন্যা ” নোভেলা টি একজন ব্যাক্তির চোখে দেখা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি । উত্তম পুরুষে বর্ণিত এই উপন্যাসটি পুরোটাই জুড়ে আছে স্বৈরতান্ত্রিক এক রাষ্ট্রের উপকথা । নামহীন এক আলবেনিয়ান যুবক এই উপন্যাসের প্রধান কথক, যে তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থার বিপরীত বিশ্বাসী একজন মানুষ। মার্ক্স বা লেনিন বাদের নীতিকথার চেয়ে যে নিজের জন্মভূমিকেই আপণ মনে করে । তার চোখে দেখা রাষ্ট্রের নিয়মবহির্ভূত কার্যকলাপ ও ক্ষমতার অপব্যবহার উপন্যাস টিতে ফুটে উঠেছে প্রবলভাবে ।
উপন্যাসটির নামকরণ টা বেস্ট ইন্টারেস্টিং। গ্রিক মিথের একটি চরিত্রের থেকে এই নামকরণ । যেখানে অ্যাগামেমনন ট্রয় যুদ্ধে যাবার সময়ে সমুদ্রের ঝড়ের মাঝে পড়েন, রুষ্ট দেবী কে শান্ত করতে গ্রীক মহানায়ক সিদ্ধ্বান্ত নেন তার মেয়ে ইফিজেনিয়াকে দেবীর কাছে বলী করার । উপন্যাসের সুজানা ও আত্নত্যাগের নামে গল্পের কথকের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন তার ভিন্ন মতাদর্শের কারনে । এটা কি আসলেই আত্মত্যাগ ? নাকি বুর্জুয়া সমাজ ব্যবস্থাপনার একটা পরিহাস?? অথবা রাষ্ট্রের নতুন একটা কূটনীতি ?
উপন্যাসটির অনুবাদ বেশ প্রাঞ্জল ও ঝরঝরে ছিলো তবে প্লট কিংবা শব্দের ব্যবহার যে কারনেই হোক খুব একটা ইজি রিডিং বলা যাবে না । কারন খুব কম কথায় অনেক কিছু টেনে আনা হয়েছে , তাই বইটি পড়ার সময়ে বেশ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে পড়তে হয়েছে । কিছু বানানের ভুল বা অভারস্টেপ আছে তবে সেটা খুবই নগণ্য । তবে পুরো অনুবাদ আলহামদুলিল্লাহ্ বেশ সাবলীল এবং সুন্দর ।
স্বৈরচারীর হাত থেকে মানুষ নিজেকে যেমন বাঁচাতে চায় ঠিক তেমনই ইসমাইল কাদারেও চেয়েছিলেন তার এই লেখা কে স্বৈরচারীর হাত থেকে মুক্ত রাখতে। তাই উপন্যাস টি ফ্রান্সের এক বন্ধুর কাছে অল্প অল্প করে পাঠান যাতে তা অবিকৃত থাকে ।
সার্থক এই নোভেলা আপনাকে ভাবাবে আপনার নিজেকে নিয়ে, নিজের রাষ্ট্র বা সমাজ ব্যবস্থাপনাকে । উপন্যাসের কথকের মতো আপনার অন্তদৃষ্টিতেও উন্মোচন হবে উঁচু শ্রেনীর কপটতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বীকারে ধুঁকতে থাকা একদল মানুষ অসহায় সমর্পণ ও আত্নত্যাগ ।