It is an excellent translation by a sophisticated female writer, Nice Paper quality. nice book.
Was this review helpful to you?
By maksuda begum siddika, Apr 22, 2021
নাসরীন মুস্তাফার রচনা দ্য ফিমেল ব্রেন বইটি পড়তে চেষ্টা করলাম। লুয়ান ব্রিজেনডাইনের দ্য ফিমেল ব্রেন এর বাঙলায়ন এটি! মূল বই যেহেতু পড়িনি এবং একজন আমপাঠক হিসেবে এটা বলার স্পর্ধা নেই যে অনুবাদ ভালো করেছেন কিংবা খারাপ করেছেন! অনুবাদের ছন্দ কলা কৌশল তথা ব্যকরণ ঠিক বা বেঠিক-- এটা বলার কিংবা জাজমেন্টাল রিমার্কস করার মতো জ্ঞান আমার নেই। তবে বিষয়টা সিলেকশন যে একটা ইউনিক এবং ইম্পর্ট্যান্ট ইন্সট্যান্স এটা বলতে পারি। অনুবাদকের তিন বছরের শ্রম, মেধা, শৈল্পিক মনন আর প্রচেষ্টার ফসল যদি তিন দিনে শেষ করি আর বলে দেই যে পড়া শেষ করলাম-- তাহলে এটা অনুবাদক তথা বইটির প্রতি জুলুমই হবে! আমি তো বলবো পড়লাম, আরও পড়তে হবে, ফের পড়তে হবে। আর কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখে কিংবা মজাদার খাবার খেতে গিয়ে যেমন মনে হয়- ইশ, যদি এটা আমার আপনজনদের দেখাতে/ খাওয়াতে পারতাম! বা মনে হয় ওদের ও দেখাব/ খাওয়াব! ঠিক এই বইটা পড়ে তেমনই মনে হয়েছে যে সবাইকে যদি পড়াতে পারতাম! ইংরেজির হুবহু বাঙলায়ন মনে হয়নি বইটি পড়তে গিয়ে! স্বচ্ছ ভাব এবং সহজ বোধগম্য শব্দচয়নে তাই বইটি নিছক ভাষান্তর না হয়ে শৈল্পিক উপস্থাপনা হয়েছে বেশি। নাসরীন মুস্তাফার স্বভাবসূলভ শিল্পী মন আর তার সাহিত্যচর্চার নির্যাস মিশে একটা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণধর্মী লেখা পাঠক -মননসম্পন্ন হতে বাধাগ্রস্ত হয়নি। সৃষ্টির সাথে মিশে গিয়ে শিল্পীমন যখন ভাবে যে, আমি যা বুঝি/ বুঝতে পারি তা অন্যকেও বুঝাবো, তখন সেটা সত্যিকার সাহিত্য হয়ে ওঠে। নারীর জীবনচক্র আর তার সাথে তার মস্তিষ্কের যে বৈজ্ঞানিক কিন্তু বাস্তবসম্মত সম্পর্ক তা সহজবোধ্য করে তুলে এনেছেন মূল রচনা থেকে। একজন নারী জন্মের পর থেকে মৃত্যু অব্দি কত রকমের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে জার্নি করে বা করতে হয় এটা যখন তার কাছের/ পাশের প্রতিবেশ তথা পুরুষ বুঝবে কিংবা বুঝার চেষ্টা করবে তখন কিন্তু নারীর প্রতি অন্যায় আচরণ, বৈষম্য অথবা অত্যাচার, বৈধ(?) অবৈধ যেকোনো ধরনের অন্যায় আর ঘটবে না বা অনেক কমে যাবে যা একটা সুস্থ জাতি ও সমাজ গঠনে,এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজন। আর বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটা অতি জরুরি একটা সল্যুশন -- নারীকে বুঝা তার মনকে তার মগজকে বুঝা! যদি বইটা নারী পড়ে তবে তার মধ্যে নিজের সম্পর্কে একটা পজিটিভ ধারণা আসবে, নিজেকে আরেকটু গুছিয়ে নিয়ে সমঝে চলতে সুবিধা হবে, যদি পুরুষ পড়ে তবে নারীর জন্য আরও একটু স্বস্তি আর সুস্থ প্রতিবেশ তৈরি হবে। বিষয়বস্তুর ব্যাপ্তি এবং এর খুটিনাটি আমার মতো ক্ষুদে পাঠক হয়তো বিস্তারিত তুলে ধরতে পারবো না, তবে যাঁরা দুঁদে পাঠক আছেন তাঁরা অবশ্যই তা বের করবেন। আমি শুধু বলবো চমৎকার আয়োজন এই বইটা! একবার না --বার বার, চেখে চেখে পড়ার মতো, পড়াবার মতো বই। কৃতজ্ঞতা শিল্পী নাসরীন মুস্তাফাকে! এমনভাবেই এগিয়ে যাক তার সাহিত্যের পাল তোলা তরী!