শুরুতেই দেয়া আছে বইয়ের পালা গুলো সংগ্রহ করতে গিয়ে চন্দ্রকুমার কে কি অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে তার কিছু বর্ণনা। পালাগুলোর বেশির ভাগই রচনা করা চাষিদের মুখে মুখে, ছিল না কোন লিখিত রূপ। লোকের মুখে মুখে প্রচলিত এই সব পালার শ্রোতার অভাবে একসময় হারিয়ে যেতে শুরু করলো। একটা সম্পূর্ণ পালার একেকটা গান হয়তো একেকজন মনে রেখেছে, তাদের সবার কাছ থেকে শুনে পুরো পালাটা চন্দ্রকুমারকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।
পালাগান গুলোর অধিকাংশই ময়মনসিংহের কোন কোন ঘটনাকে অবলম্বন করে রচিত। যে ঘটনা লোকজন শুনেছে কান্না ভেজা চোখে, যে সকল অবাধ, বাধাহীন অত্যাচারকে প্রতিহত করার ক্ষমতা কারো ছিল না, যে সকল নির্যাতনে পিষ্ট হয়েছে নিরীহ প্রাণ, সেই সকল করুণ কাহিনীগুলোকে গ্রাম্য কবিরা নিজেদের মতো করে সুর বেঁধে কণ্ঠে তুলে নিয়েছেন। যারা গান বেঁধেছে তাদের হয়তো অক্ষর, মাত্রা, শব্দ, ছন্দের কোন জ্ঞান ছিলোনা, তবে ছিল কবিত্বের প্রতি, ছন্দের প্রতি অফুরন্ত টান।
পৌরাণিক উপাখ্যান বিষয়ক কাব্যকথা প্রাচীন বঙ্গসাহিত্যে অনেক পাওয়া যায়, সাহিত্যের মূল্য মান বিচারে তারা অবশ্যই অনেকটা জায়গা জুড়ে আছে। কিন্তু “মহুয়া”, “মলুয়া”, “দেওয়ানা মদিনা” এদের তুলনা যে সেই সকল পৌরাণিক কাব্যকথার সাথে কোনভাবেই হয় না। পৌরাণিক উপাখ্যানগুলোতে হয়তো সংস্কৃত শব্দের, মাত্রার, ছন্দের যথোপযুক্ত ব্যবহার আছে, আর এই সব গীতিকাতে আছে পাড়া গায়ের সহজ, সরল কথা, যাতে নেই সংস্কৃতের কোন ছোঁয়া, যারা তাদের নিজ গুনেই অনন্য, অসাধারণ। এই সব পল্লী গাথায় আছে খাটি বাঙ্গালী জীবনের ছোঁয়া, এইসকল পল্লী গাথা স্বর্গ থেকে প্রাপ্ত অমৃত নয়, এটা আমাদের পাশের বাড়ির আমগাছের মৌচাকের মধু, তাই বোধহয় এই মধুর আস্বাদে এতোটা তৃপ্তি পাওয়া যায়।