‘জলময়ূ’ একটি প্রতীক। জলময়ূর একটি জীবন বৃত্তান্ত। জলময়ূর কিছু জীবনের দহন আর নিদারুণ এক পরাবাস্তবতা। আমরা সাধারণত আমাদের সমাজ সংসারে একজন নারীকে দেখি, একজন মা’কে দেখি স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে সন্তানকে বুকের মাঝে আগলে বাঁচতে। শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক , সামাজিক ও অর্থনৈতিক দহন পীড়নে পর্যুদস্ত হয়েও কেমন দৃঢ়ভাবে প্রিয় সন্তানের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতে। পুরো জীবনটাই উৎসর্গ করে দিতে সন্তানের জন্য। ‘জলময়ূর’ ঠিক এমন একটি উপন্যাস যেখানে একজন নারী নয়। একজন পিতা, একজন পুরুষ নিজে স্ত্রী পরিত্যক্ত হয়ে একটি পুরুষ জলময়ূরের মতো সন্তানকে আগলে নেয় বুকে। লালন পালন করে একজন মমতাময়ী মায়ের মতোই। জীবনের সব কিছু নিজের বলতে একমাত্র ধারণ করে তার সন্তানকে। একজন মায়াবতী মায়ের মতোই নিজের জীবনের সবটুকু খুশি সমর্পিত করে দেয় সন্তানের জন্য। চার বছরের শিশু সন্তানকে বুকে নিয়ে একজন ত্রিশোর্ধ বয়সের পিতার একজন পরিপূর্ণ একক বাবা ও মা হয়ে উঠার গল্প। একাকিত্বের ঘেরাটোপে হেঁাচট খেতে খেতে সে কী আদৌ পেরে উঠে সন্তানকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে! না—কি সে মানুষ বলেই হেরে যায় তার যাপিত জীবনে! একজন মানুষ, বাবা জলময়ূরের জীবন যাপন করেও ঠিক জলময়ূর হয়ে উঠতে পারে কী সেই পিতা! পরিশেষে জীবন একজন পিতাকে ঠিক কোন কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করিয়ে দেয়! সফল সন্তানের সফল পিতা! না—কি মাতৃহারা সন্তান মানুষ করতে না পারা একজন ব্যর্থ পিতা। এসকল প্রশ্নের উত্তরের পাশাপাশি জলময়ূর উপন্যাসে পাবেন আপনার আমার আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কিছু পরাবাস্তব দহন পীড়ন ও প্রকৃতির রহস্যময় অনুশাসনের কঠিনত্বের ইতিবৃত্ত। ‘জলময়ূর’ প্রতিটি পাঠককে তার আপন জীবনেই যেন দাঁড় করিয়ে দিবে গল্পের ঘটনাপ্রবাহে। আর এভাবেই ‘জলময়ূর’ উপন্যাস যায়গা করে নিবে প্রতিটি পাঠক মনে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
লেখক নাজনীন নাহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমফিল করেছেন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি করেছেন। স্বামী সন্তান নিয়ে তার সংসার। ইতোমধ্যে তার লেখা বিভিন্ন জনরার ৪২টি একক মৌলিক বই প্রকাশিত হয়েছে। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ তিনি। তার লেখার মূল উপজীব্য হচ্ছে মানুষ, প্রেম, দেশাত্মবোধ, মনুষ্যত্ব এবং মানবতা। তিনি নিভৃতচারী একজন মানুষ। সংসারের পাশাপাশি নিজেকে ডুবিয়ে রাখেন সাহিত্য চর্চায়। তাইতো নিজেকে নয় নিজের লেখা, বোধ, উপলব্ধি তথা নিজের সৃষ্টিকে পুরোদস্তুর সমৃদ্ধ করতে চান তিনি। পৌঁছে দিতে চান মানুষের মন ও মগজের ভাবনায়। মানুষের আত্মউপলব্ধিতে রোপণ করতে চান বিশুদ্ধ বোধের অখণ্ড সন্তরণ। লেখার মাধ্যমে তিনি মানুষের কল্যাণ করতে চান। মানুষের মনন ও বিশ্বাসের পৃথিবীতে মানবিকতার বিশুদ্ধ বোধ ছড়িয়ে দিতে চান। তার লেখালেখির উদ্দেশ্য এটাই।