‘বারাশিয়া অপরূপ রূপলাবণ্যময় ছোট্ট সোনার গ্রাম’-বাংলাদেশের যে কোন গ্রামের ক্ষেত্রেই কথাটি খাঁটে। ‘বারাশিয়ার রূপ’-এ আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপটিই দেখতে পাই। রূপ থাকে মানব-মানবীর অঙ্গে-ঢঙ্গে, কাজে-সাজে, চিন্তায়-মননে। রূপ আছে তার চারপাশের পরিবেশে-প্রকৃতিতে, পরিবারে, সমাজে। এসব রূপের আছে বিচিত্র মাধুর্য, বর্ণিল ঢং। বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের পটভূমিকায় ষড়ঋতুর পরিক্রমায় এসব চিরচেনা রূপের ধরণ-প্রকরণের এক গোছালো সম্মিলন এ বইয়ের পাঠককে বিস্মিত করবে।
যেরূপে এ বইতে তার রূপায়ণ, বাংলা সাহিত্যে তার অনন্যতা কোন বোদ্ধা সমালোচক কর্তৃক স্বীকৃত হওয়ার অপেক্ষামাত্র। সে অবধি তাকে অপরূপ বলে পাঠকমাত্রেই স্বীকার করবেন। তবে এতে সাধনা আছে। লেখকের রয়েছে স্বাভাবিক কাব্যশক্তি, শুচিসমৃদ্ধ পরিচ্ছন্নতাজ্ঞান, নিশীথের নৈশব্দসম সুতীব্র বেদনাবোধ। আছে বহুবিধ-বহুমাত্রার অভিজ্ঞান।
হৃদয় পর্যটক তাঁর শৈশব, কৈশোর, যৌবন, তারুণ্যের মানুষ, সময়, অবস্থান এবং এসব ঘিরে তাঁর একান্ত নস্টালজিয়ায় পর্যটন করেন। পর্যটনকালে তিনি রূপদর্শন করেন তাঁর চৌপাশের মানব-মানবীর হৃদয়ের। কখনো ঢুঁ মারেন হৃদয়াভ্যন্তরের অলিন্দ প্রকোষ্ঠে। কখনওবা বিশ্রাম নেন এর নিলয় উপত্যকায়। এইসব রূপদর্শন অভিজ্ঞতার স্বাদ পেতে এক ঝটকায় পড়ে ফেলা যায় ‘বারাশিয়ার রূপ’।
Was this review helpful to you?
By Md. Rezoanuzzaman, Apr 8, 2021
যাঁরা গ্রাম ভালোবাসেন, প্রকৃতি ভালোবাসেন, জীবনযুদ্ধ মোকাবেলা করেছেন - তাঁরা নিশ্চিত 'বারাশিয়ার রূপ' পাঠে নিজেকেই খুঁজে পাবেন...