আপনি কি সফল হতে চান? কীভাবে বুঝবেন আপনি সফল কি না?
“অনেক সফল শিক্ষক একজন সফল ব্যবসায়ীকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। অনেকে আছেন পেশায় ডাক্তার কিন্তু তিনি অন্য পেশার মানুষের সফলতার সাথে নিজের সফলতাকে তুলনা করেন।
সুন্দর গাড়ি, দামি ঘড়ি, কাপড়চোপড় এগুলো তার পাশের মানুষগুলোকে ভাবতে শেখায়, ক্রয়ক্ষমতার বাড়াবাড়িই সফলতা। এখন সফলতার অঙ্কটি এমন হয়ে গেছে যে:
চাকরি বিলাসী জীবন ও বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা= সফল
চাকরি দরিদ্র জীবন ও কম ক্রয়ক্ষমতা= ব্যর্থ
ব্যবসা বিলাসী জীবন ও বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা= সফল
ব্যবসা দরিদ্র জীবন ও কম ক্রয়ক্ষমতা= ব্যর্থ
যে যাই হোক না কেন, সমাজের চোখে সফল হতে গেলে আমাদের ধনী হতে হবে। অথচ সফলতা কেবল অর্থ ও ক্রয়ক্ষমতার সাথে সম্পৃক্ত নয়। সফলতা শব্দটি বলার সাথে সাথে মার্ক জুকারবার্গের চেহারাটা আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে। ভেসে আসে জ্যাক মা, স্টিভ জবসের চেহারা। আমরা সফল বলতে বুঝতেই শিখে যাই যিনি অনেক বেতনে চাকরি করছেন, ঝকঝকে জীবন যাপন করছেন। আমরা ধরেই নেই সফলেরা দামি জুতো পড়বে, দামি পাত্রে পানি খাবে, দামি যানবাহনে ভ্রমণ করবে। এই ধারণা ভুল নয়। তবে সফলতার এই একপেশে চিত্র সমাজে দীর্ঘস্থায়ী হতাশা ডেকে নিয়ে আসে, ভবিষ্যতে আরো আসবে।“
- সহস্র সুমন, সফলতার আপেক্ষিকতা
বইয়ের আমার প্রিয় কিছু লাইন পড়েই নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন সফলতা ব্যাপারটি কত আপেক্ষিক। ২১টি অধ্যায়ে লেখক বিভিন্ন দিক দিয়ে সফলতা কত আপেক্ষিক সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। সফলতার সাথে নেতৃত্বের সম্পর্ক আছে কি না, সফলতা নিজেই একটি পণ্য হয়ে গেছে কি না এসব বিষয়ে লেখক আলোচনা করেছেন। তরুণদের আত্মহত্যা সম্পর্কেও তিনি লিখেছেন। কীভাবে সফল হতে হয় কিংবা সফলদের জীবনী নিয়ে অনেক লেখা হয় কিন্তু সফলতা যে আপেক্ষিক হতে পারে সেটা নিয়ে হয়তো আগে কোনো বই লেখা হয়নি, অন্তত বাংলাতে লেখা হয়নি। সফলতা সম্পর্কে আমার ধারণা অনেকটাই বদলে গেছে এই বইটা পড়ে; অসাধারণ একটি বই।