3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 150TK. 139 You Save TK. 11 (7%)
ভুতের ছানা বিদায় নেয় খুশির কাছ থেকে। যাবার সময় খুশিকে বলল, আমি আর আসতে পারব না। আমি একটা শখ পূরণ করতে পারি। আর একবারই প্রিয়দের ডাকে আসতে পারি। শুধু বলে যাচ্ছি অসম্ভব কিছুর চাহিদা ভ
মশাদের মিটিং— যে বই মানুষ গড়তে জানে
জহুর মুনিম
.
বই: মশাদের মিটিং
লেখক: মিনহাজ ফয়সল
ধরন: শিশুতোষ গল্প
প্রচ্ছদ: নিয়াজ চৌধুরী তুলি
অলংকরণ: কামরুন নাহার ময়না
প্রকাশনী: বাবুই
অনলাইন পরিবেশক: রকমারি
.
মিনহাজ ফয়সল-এর ছোটদের গল্পের বই ‘মশাদের মিটিং’। নিয়াজ চৌধুরী তুলির প্রচ্ছদে দেখা যাচ্ছে মুকুট পরা এক মশা অন্যান্য মশাদের নিয়ে আলাপ চালাচ্ছেন। প্রচ্ছদ নিখুঁত, তা অস্বীকারের উপায় নেই।
ভেতরে আছে দশটি গল্প৷ গল্পগুলোর দৈর্ঘ্য এমন যে তা ছোটদের বিরক্ত করবে না। আবার পড়া শুরু করতেই শেষ হয়ে যাবে, অতটা ছোটও নয়! এককথায় গল্পের থিম ও ভাষা যেমন ছোটদের উপযোগী, তেমনই গল্পের শরীরও!
প্রায়-প্রতিটি গল্পের সাথে আছে একাধিক অলংকরণ। গল্পের সাথে অলংকরণের মিল সহজেই ধরা যায়। অলংকরণ-শিল্পী কামরুন নাহার ময়না।
বইয়ের প্রথম গল্প ‘তোতাপাখি’। তোতাপাখি হচ্ছে মিতুর বন্ধু, যে সবসময় মিতুর সাথে থাকে। তোতাপাখি অদ্ভুত বায়না ধরেছে যে সে নাকি মিতুর সাথে স্কুলে পরীক্ষা দেবে। প্রথমে হোম টিউটরের কাছে পরীক্ষা দেওয়ার শর্তে রাজি হলো মিতু। পরীক্ষায় মিতুকে পেছনেও ফেলে দিলো তোতাপাখি। কারণ হিসেবে তোতাপাখি বলল, মিতু যখন পড়ে, তখন আমি সব শুনে শিখে নিই। মিতু তো গাইডের বাইরে থেকে কিছু শিখেনি, না হলে আমার চেয়ে বেশি নম্বর পেত।
গল্প থেকে শিক্ষা—
জ্ঞান তাড়াহুড়ো আর সহজে অর্জন করলে তা ছুটেও যায় তাড়াতাড়ি। সুতরাং গাইডকে সহায়ক না বানিয়ে মগজকে সহায়ক বানিয়েই পড়ালেখা করতে হবে।
‘পুতুলের জন্মদিন’ আরেকটি চমৎকার মানবিকতার গল্প। আজ পুতুলের জন্মদিন। সেই সুবাদে ঘরে বিত্তশালী লোকজন এসেছেন। হঠাৎ কিছু পথশিশু এল ঘরে। বাবা বের করে দিতে চাইলে পুতুল জানালো পুতুলই তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। পুতুল আরও বলল— বাবা, এদেরও ইচ্ছে করে কোরমা-পোলাও খেতে। কিন্তু কখনও খেতে পায় না। পুতুলের জন্মদিনে সবার সাথে বসে খেল পথশিশুরাও।
গল্প থেকে শিক্ষা—
শুধু নিজেকে নিয়ে না ভেবে ভাবতে হবে সবাইকে নিয়ে৷ অহংকার নয়, বরং সবাইকে ভালোবাসতে হবে।
‘ভূতের বাচ্ছা বেবিং’ গল্পে বর্তমান সময়ের শিশুদের শৈশবের ভয়ংকর দৃশ্য দেখা যায়, বিশেষকরে শহরের শিশুদের৷ গল্পটি এরকম—বাচ্ছাভূত বেবিং একবার শহরে গেল বেড়াতে। তার ভালো লাগল শহর, তাই সেখানেই থেকে গেল। বেবিং অই শহরের ছোট্ট হিয়া-দিয়ার সাথে থাকত৷ শহরের বাচ্ছারা খেলাধুলা করত না, বরং ফোনেই ব্যস্ত থাকত—বেবিং দেখে দুঃখ পেল ও শহর ছেড়ে চলে গেল।
গল্প থেকে শিক্ষা—
শিশু মানেই খেলবে, দুষ্টুমি করবে। কিন্তু খেলার যদি ব্যবস্থা না থাকে, পড়ার চাপে যদি দিন পার হয়ে যায়, তবে সে শিশু তার শৈশব হারাল। তাই শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যাপারটিও নিশ্চিত করতে হবে।
‘মশাদের মিটিং’ বইয়ের শেষ গল্পের আগের গল্প। এই গল্পের শিরোনামেই বইয়ের নাম রাখা হয়েছে৷
টুং ও টাং নামে দুটো মশা দেখল মানুষেরা ফরমালিন মেশানো খাবার খাচ্ছে। মানুষের জন্যে তাদের চিন্তা হলো। মশাদের রাজ্যে মিটিং বসল ও এই সিদ্ধান্ত হলো যে, যে খাবারে ফরমালিন মেশাতে যাবে, তাকেই ডেঙ্গু মশা কামড়াবে।
অতঃপর অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলো, আর তারা খাদ্যে ফরমালিন দেওয়া ছেড়ে দিলো।
গল্প থেকে শিক্ষা—
খাবারে ফরমালিন মেশানো একটি নিন্দনীয় কাজ। এটা বর্জনীয়। কোথাও এমন হতে দেখলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ করতে হবে।
পাঠ্যবই যদি জ্ঞানী বানায়, তবে আউটবই বানায় মানুষ— মিনহাজ ফয়সল-এর গল্পগ্রন্থ ‘মশাদের মিটিং’ এর জ্বলন্ত উদাহরণ। তাই বইটি আপনার শিশুর হাতে তুলে দিলে ক্ষতি হবে না মর্মে সাক্ষ্য দিলাম!