38 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 275TK. 239 You Save TK. 36 (13%)
Related Products
Product Specification & Summary
“শকুনি উবাচ" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ
কার কুটিলতায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল? এমন প্রশ্ন উঠলে মহাভারত সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখা ব্যক্তিও নির্দ্বিধায় একটি নাম উচ্চারণ করবেন— শকুনি। আমাদের অন্যতম জনপ্রিয় দুটি বাগধারা কংস মামা আর শকুনি মামা'। কংসের পরিচয় সবিস্তারে না জানলেও শকুনি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি যে এই লােকটি পাশা খেলে দ্রৌপদীকে অপমানের দরুন এক সময় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছিল। | কিন্তু এই সাধারণ জ্ঞান’-এর বাইরে মহাভারতের মহারণ্যে শকুনিকে খুঁজতে গেলে অনেক বাধাবিপত্তি বেরিয়ে তার কাছে পৌঁছতে হয়। কেননা, প্রথমত, ব্যাসদেব একটা অসাধারণ খল চরিত্র সৃষ্টি করলেন বটে কিন্তু তার সম্পর্কে মহাকাব্যে তেমন কিছুই আমাদের জানিয়ে যাননি। দ্বিতীয়ত, যেটুকু জানিয়েছেন, আমাদের প্রচলিত ভার্সনে আমরা শকুনিকে ব্যাসদেবের অঙ্কন অনুসারে পাই না। বাজার অর্থনীতির যুগে শকুনি চরিত্রটি সিনেমার ‘ভিলেন’রূপে আমাদের কাছে পরিচিত।
মহাভারতের শকুনির প্রতিটি কাজের পেছনে রয়েছে কিছু কারণ। আমরা শকুনির কুটিলতা সম্পর্কে জানি কিন্তু শকুনির শকুনি’ হয়ে ওঠার গল্পটা জানা হয়নি। আমি সেই শকুনির খোঁজ করেছি যিনি ধর্ম অর্থাৎ কর্তব্যের উপরে বুদ্ধিকে, পরিকল্পনাকে স্থান দেন। এমন একটি মানুষকে সন্ধান করার চেষ্টা করেছি যে মূলত তার সময় থেকে অনেক এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ, আধুনিক
মূলত ব্যাসদেব যে চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন তিনি নিজে সে চরিত্রের পূর্ণতা দেননি। হতে পারে সৃষ্টিশীল মানুষের খামখেয়ালি স্বভাবের স্বীকার হয়েছিলেন শকুনি। অথবা এমন হওয়া সম্ভব, ব্যাসদেব আসলে শকুনিকে একটা সাইড ক্যারেক্টার হিসেবেই নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মহাভারত যখন ‘কাহিনি' হয়ে গেল তখন শকুনি হলেন এর খলনায়ক আর হাজার হাজার বছর পরে তাকে খল চরিত্র করে সহজেই চালু সিনেমা তৈরি করা গেল। শকুনিকে খল চরিত্র করেই জটিল মহাভারত হয়ে গেল সহজ। কিন্তু সেখানেও শকুনিকে ‘গথাম সিটি’র ‘জোকার’-এর মতাে জটিল চরিত্র তৈরি করে প্রায় সবাই তাকে বলিউডি ভিলেন’ করেই রেখে দিলেন।