আয়োজনে নটখট লেগেই আছে। জুতো পাওয়া যায়তো ফিতে নেই, চিরুনী আছে তো দাঁতগুলো সব খোলা। এই করতে-করতে যখন সাড়ে নটা বাজলো, তখন আর পেছনে তাকানোর সময় নেই। মাহবুব আলী সটান-সোজা দাঁড়িয়ে হাঁক দিলো, কই তুমি, খুব হয়েছে, আর নয়। এবার রওনা দিতে হয়। শামসাদ জাহান দু'হাতে রুমাল ভাঁজ করতে-করতে স্বামীর সামনে এসে দাঁড়ালো। তারপর, বাম হাতে মাহবুব আলীর কোটের উপরের পকেট ফাঁক করে ডানহাতে রুমাল খানা গুজে দিলো। ভালো থেকো, শরীরের যত্ন নিও। পৌছে ফোন করতে চেষ্টা করো। বলতে-বলতে মুখ তুলে স্বামীর চোখে চোখ রাখলো। আচ্ছা, আচ্ছা। ব্যাগ দাও, আর স্যুটকেসটা নামিয়ে দিতে বলো।
মাহবুব আলী নিজে যখন নিচে নামলো তখন দশটা বাজতে মিনিট পাঁচেক বাকি। প্লেন বারোটা দশে। টানা ছ'ঘণ্টার পথ। দুপুরের খাবার শেষ করে মাহবুব তার আসনটা সামান্য পেছনে হেলিয়ে নিলো। ইচ্ছা, দু'চোখের পাতা এক ক'রে কিছু সময় কাটিয়ে দেওয়া।