বহতা নদীর মতো জীবন ছুটে চলে আপন গতিতে। সেই গতি কখনো দ্রুত হয়, কখনো মন্থর। জীবনের এই ছুটে চলার গতি কিংবা থেমে গিয়ে আবারও নতুন জীবনের সন্ধান পাওয়ার এক অনন্য নাম 'দ্বীপান্তরে'।
যে নামকে কেন্দ্র করে উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে কয়েকটি জীবনের আখ্যান। বেঁচে থাকার অবিরাম যুদ্ধে হার না মানা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র দিপ্তীময়ীর জীবনের আকস্মিক সত্যকে নিয়ে এগিয়ে চলে মূল কাহিনী। সেই কাহিনীতে যুক্ত হয় কয়েকটি পরিবার, কিছু মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গের পরিবর্তিত রূপ।
কাহিনীর আবর্তে জড়িয়ে যায় কয়েকটি নাম। দিপ্তীময়ীর সাথে মিহিরের সম্পর্কের উত্থান পতনের নিখুঁত গাঁথুনি। আত্মার সাথে সম্পর্কের বাঁধন, বিচ্ছেদ এবং টানাপোড়নের এক নিরেট বিন্যাস। অপরদিকে শাহানারা এবং রাকিবের ভালোবাসার টান, হৃদয়ের অবিনাশী বন্ধন চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে উপন্যাসজুড়ে। যেখানে আছে তৃপ্তি, সুখের ছোঁয়া এবং পরম পাপ্তি।
ব্যর্থতার অপরপৃষ্ঠায় বেহালার সুরে নতুন করে বেঁচে থাকা ভালোবাসার সুনিপুণ সংজ্ঞা।
তাইতো লেখকের ভাষায়, 'ব্যর্থতা আর বিচ্ছেদের দহনে পুড়ে পুড়ে খাঁক হয়েও বেঁচে থাকার আরেক নাম জীবন। যে জীবনে আলো নেই, অথচ নিভু নিভু ক্ষীণ আলোকরশ্মির রেখা থেকে যায়।'
মোহনীয়, তৃষ্ণাভরা পাঠক মনকে শেষের দৃশ্যগুলো যেন বারবার আঁকড়ে ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে। তাই স্বীকার করতেই হয়, শেষ হয়েও হয়নি শেষ, মনে রয়ে গেছে তার শেষ।