#Rokomari_Book_Club_Review_Competition
নামঃইসরাত জাহান রাখি
বইয়ের নামঃহযরত আয়েশ (রা) ১০০ ঘটনা
লেখক ঃকাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
মূলঃ১৫০
পৃষ্ঠা ঃ১১২
রিভিউ ঃ১০
উম্মুল মুমিনীন হয়রত আয়েশা(রা) মর্যাদা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইসলাম ধর্মের তিনি এক অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব,তার সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসের বানী উল্লেখই যথেষ্ট। বিশেষ করে যার ব্যাপারে কোরআনের আয়াত নাযিল হয়েছে, যার বিষয়টি কিয়ামত পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে, নতুন কিছু লেখার সাধ্য আমার নেই।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু একটি ঘটনা ঃ
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু করছিলেন। সে খেলনার একটি ঘোড়া ও ছিল, যার ডানে-বাঁয়ে দুটি পাখনা। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম ওইখান থেকে কোথাও যেতে গিয়ে এই খেলনা সম্পর্কে জানতে চাইলেন, জবাবে আয়েশা ( রা) বলল এটি ঘোড়া। রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম বললেন -ঘোড়ার তো পাখা থাকেনা, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু এর কন্ঠে জবাব দিলেন কেন? সুলাইমান আলাই সাল্লাম এর ঘোড়ার তো পাখা ছিল।
সম্মানিত পিতার সান্নিধ্য ঃ
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তার অন্যান্য সন্তানদের মতো আয়েশা( রা) কে সুশিক্ষা দিয়েছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় আয়েশা (রা) বিয়ের পরও অব্যাহত ছিল। তার কোনো সাধারণ দোষ পিতার চোখ এড়াতো না।তিনি খুব সচেতন অভিভাবক ও শাসক ছিলেন। অনেক সময় তো তিনি রাসূল (সা) সামনে শাসন করতেন।
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এর ক্লাসে ঃ
যদিও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু শুরু থেকেই পিতার সার্বক্ষণিক ছায়া থেকে শিক্ষা-দীক্ষা আদব ভাষা সাহিত্য ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন।
রাসূল( সা) যিনি সমগ্র মানব জাতির শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ছিলেন, তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু প্রতিটি কাজকর্ম সম্পাদিত হত।
পারিবারিক জীবন ঃ
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু পারিবারিক জীবন ক্ষুধা-দারিদ্র্য অত্যন্ত সাদাসিধেভাবে কাটিয়েছেন। যে ঘরে বউ হয়ে এলেন, সেটি ছিল রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর দরবার। খুব স্বল্প সামগ্রীর ছিল সেখানে। রাতের বেলা বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থাও ছিল পরিবারবর্গের সামর্থের বাহিরে।
আখলাক অভ্যাস ঃ
আল্লাহতালার আয়েশা রাদিয়াল্লাহু অতুলনীয় উন্নতচরিত্র ওপছন্দনীয় গুণে গুণান্বিত করেছেন। জীবনটা যদি অভাব-অনটনে কাটিয়েছেন কিন্ত কখনও মুখে অভিযোগের কোন শব্দ উচ্চারণ করেননি। অল্পতুষ্টি বাতি জেলে ছিলেন সর্বক্ষণসর্বদা রাসূল সাল্লাহু সাল্লাম এর অনবদ্য এবং তার শান্তি সুখ সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যস্ত থাকতেন। এমনকি তার আত্মীয় স্বজনদের প্রতি ও যথাসম্ভব খেয়াল রাখতেন।
ইবাদতে মগ্ন এমন অবস্থায়, তাহাজ্জুদ এবং অন্যান্য নফল নামাজ কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। কঠিন অতিরিক্ত গরমের দিনেও রোজা রাখতেন। প্রতি বছর হজ করা ছিল তার অভ্যাস। আল্লাহর ভয় ও আখিরাতে চিন্তায় সারাক্ষণ তো ভয়ে থাকতেন। পরকালের ভয় যখন অশ্রু হয়ে ঝরে তিনি তখন কাঁপতে থাকতেন।
আল্লাহতালার দরবারে মর্যাদা ঃ
আল্লাহতালার দরবারে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু মর্যাদা কি ছিল, এটা অনুমান এর কথা দ্বারা স্পষ্ট যে, আল্লাহতালা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু নির্দোষ প্রমাণের জন্য কোরআনের আয়াত নাযিল করেছেন।