অন্ধের রাজপথ : অন্ধকার থেকে আলোর পথের ফিল্ডবুক
''সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি। ...ফরিদ মিয়া অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে বসে আছে। তার স্ত্রী নার্গিস বেগম ছাতা খুঁজতে ব্যস্ত। বাসার কোথাও ছাতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফরিদ মিয়া বিরক্ত হয়ে বললো, 'কাজের সময় একটা জিনিসও খুঁজে পাওয়া যায় না! প্রতি বছর বৃষ্টির মৌসুমে একটা করে ছাতা কিনলেও বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সেই ছাতার কোরো খোঁজ আর থাকে না! ছাতার যেনো পাখা গজিয়েছে! সংসারের জিনিসপত্র যে গুছিয়ে রাখা দরকার তা কে বুঝে!'
নার্গিস বেগম খানিকটা চেচিয়ে বললো, 'শুধু টাকা ইনকাম করলে যদি সংসার চলতো তাহলে কোনো পুরুষই বিয়ে করতো না। আর সংসারের জিনিসপত্র বলতে শুধু একটা ছাতাকে বোঝায় না। সংসারের সব জিনিসই গোছানো আছে শুধু তোমার এক ছাতা ছাড়া। সেটাও গোছানো থাকতো যদি বাসায় ফেরত আসতো! আর গুছিয়ে রাখার কথা তুমি বলছো! নিজের কোন জিনিসটা গোছানো থাকে তোমার!...
নুহা ওয়াসরুম থেকে বের হয়ে বললো...''
এটি লেখক আরমানউজ্জামান এর 'অন্ধের রাজপথ' শুরুর দৃশ্য। অতিপরিচিত, কমন এবং জীবন্ত। এমন সব দৃশ্যের পর দৃশ্য যোজনে কথাকার পাঠকের জন্য তৈরি করেছেন মুগ্ধতার রাজপথ। প্রতিটি দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে আমাদের চারপাশ থেকেই, নাগালের। তাই দৃশ্যগুলো বেশ আপন মনে হয়েছে। প্রথম দৃশ্য থেকে সমাপন দৃশ্য পর্যন্ত পাঠককে মুগ্ধতার সহিত ধরে রাখতে পেরেছেন সমানভাবে, এটাই লেখকের সার্থকতা।
লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে বেকারত্বকেও কারত্ব করে তোলা যায়। নারী নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিশ্চিত করতে কীভাবে তৈরি হতে পারে-সহ আরও কতো কী!