"প্রত্যাশা" বইয়ের ফ্ল্যাপে লিখা
ভার্সিটি ছাত্র মােস্তাক ও পারভীনের দলগত এক টিভি প্রােগ্রাম শুটিং করতে সাভারের এক গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হৃদ্যতা বাড়লে পরে বিয়ে, সংসার । তাদের দুজনেরই আংশিক সমস্যার জন্য সন্তান না আসাতে পরে সেই বাড়ির মা-মরা শিশু আলিফকে লালন পালন করতে নিয়ে আসে ওরা। একসময়ে স্বামীকে পিতৃ-সুখে দেখতেই দ্বিতীয় বিবাহ করতে অনুমতি দিয়ে পারভীন আমেরিকায় কাজ নিয়ে পাড়ি জমায়… আলিফের অনুনয় বিনয়ে তার খালাকে বিয়ে করে আনে মােস্তাক, সে ঘরে জয়িতার জন্ম। এবার আলিফ তার আদর যত্নের ঘাটতি দেখে মালয়েশিয়ায় তার বাবার কাছে চলে যায় । পারভীন মা হওয়ার অদম্য আগ্রহ ও প্রত্যাশায় আমেরিকাতেই ‘টেস্টটিউব বেবি’ নেয় যাতে ‘সীমেন’ ডােনার ভারতীয় জাফর ইকবাল। এবার মানসিক চাপে পড়ে সে সন্তানের কি হবে পিতৃ পরিচয়! শিক্ষাঙ্গনে আলিফের পরিচয় হয় লেকচারার শিপ্রা অধিকারীর সাথে, সেও সেই টিভি প্রােগ্রামে সাভারের সেই গ্রামের বাড়িটিতে গিয়েছিল । বিদেশে স্নেহের কাঙাল আলিফ মাসী বলে ডাকতে শুরু করে তাকে। বিধবা মাসী আর বিপত্নীক বাবার বন্ধুত্ব দেখে তাদের চার হাত একত্র করে দিতে ভাবে সে। পড়াশুনা শেষে আলিফ দেশে ফিরে খালা, জয়িতাসহ নানা বাড়ি দেখা করতে গেলে আশেপাশের অনেকেই দুই নাতী-নাতিনের বিবাহের সম্বন্ধ দিতে থাকলে জমিজমা ভাগ-বাটোয়ারার ভয়ে পুত্রহীন বৃদ্ধ নানা চিন্তিত। কানে কানে নাতীকে জয়িতাকেই বিবাহ করে ঝামেলা শেষ করতে বুদ্ধি দেয় সে। তারপরে শুরু হতে থাকে টানাপােড়ন ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব।