#বুক_রিভিউ_বিকেল_বর্ষা
ছোট ছোট এগারোটি গল্পের সংকলন “বিকেল বর্ষা”। এক একটি গল্প এক এক স্বাদের।
প্রথম গল্প “মুক্তি” এই পুরুষশাসিত সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতার কথা বলে। দ্বিতীয় গল্প “ভয়” ভূতের গল্প। তৃতীয় গল্প “মেঘরঙা মেয়ে” আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় প্রথাবদ্ধ সমাজের কাছে হার না মেনে মাথা উঁচু করে পথ চলতে। চতুর্থ গল্প “পাত্রী দেখা” এই সমাজের হাস্যকর পাত্রী দেখার নিয়মের মুখে চপেটাঘাত করেছে। পঞ্চম গল্প “অসুখ” এই সংকলনের সেরা গল্প। অনু এক সাধারণ মেয়ে, বর মিহির যাকে প্রতিনিয়ত দাঁড়িপাল্লায় তুলে তার পারফেকশনের পরিমাপ করে। সবকিছুই নিখুঁত হওয়া চাই তার। এত নিখুঁত হওয়ার চাপে বুক দুরুদুরু করে অনুর, মরে যেতে ইচ্ছে করে অনুর।
এই সমাজে নারীমাত্রই কি তাই নয়? প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিয়ে চলা এক ভারবাহী সত্তা?
ষষ্ঠ গল্প “বাবার তুবা” মন ছুঁয়ে যায় এর সহজ সরল কাহিনী আর হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপনের কারণে। সপ্তম গল্প “জন্মদাত্রী” এক মায়ের যন্ত্রণার গল্প, যে তার সদ্যোজাত কন্যাকে উদ্দেশ্য করে বলে, “মারে, তুই মানুষ হবি। মেয়ে মানুষ কখনোই নয়।“
অষ্টম গল্প “রাসুর অপেক্ষায়” এক সন্তানপ্রত্যাশী দম্পতির গল্প, বিয়ের আঠারো বছর পরেও যারা অনাগত সন্তানের আশায় কবিরাজি টোটকা খেয়ে যায় হাসিমুখে। নবম গল্প “পদ্মকাহন” মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের গল্প। দশম গল্প “মল্লিকা” এক অন্য রকম জীবনবোধের গল্প। এই বইয়ের সর্বশেষ গল্প “ভাতের সন্ধানে” জীবনের এক নির্মম বাস্তবতার গল্প যা বড় সহজ বয়ানে মূর্ত করে তোলা হয়েছে।
বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে লেখক বিভিন্ন ঘরানায় এক্সপেরিমেন্ট করতে ভালোবাসেন। নিজের সম্পর্কে লিখতে গিয়ে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লিখে যাওয়ার।
শুভাকাঙ্ক্ষী পাঠক হিসেবে তামান্নার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে বানানের প্রতি মনোযোগী হওয়ার এবং বিশ্বসাহিত্যের সৃষ্টিগুলো পাঠ করবার। তবেই তিনি নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন, যেতে পারবেন আরও বহুদূর।
তামান্নার মধ্যে আমি হার না মেনে সামনে এগিয়ে চলার যে আগুন দেখতে পেয়েছি তা যেন স্ফুলিঙ্গেই শেষ না হয়ে যায় বরং শিখা অনির্বাণ হয়ে প্রজ্জ্বলিত হয় আর আলোকিত করে আরও অগণিত পাঠককে এই শুভকামনা রইল।
এক নজরেঃ
বইয়ের নামঃ “বিকেল বর্ষা”
লেখকঃ তামান্না জেনিফার
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৬০
প্রচ্ছদঃ মেহেদী হাসান শোয়েব
প্রকাশনীঃ পাললিক সৌরভ
মলাট মূল্যঃ ২০০ টাকা
রেটিং : ৮/১০