বাংলা সাহিত্যে চিঠির অনেক বড় একটা অবদান আছে। অনেক সুন্দর সুন্দর চিঠি আছে, যা আমরা জানিনা ঠিক মত, আমি স্কুলে থাকাকালীন একটা রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে সুকান্ত সমগ্র পেয়েছিলাম, এরপরে সেই সমগ্রে থাকা সুকান্তের চিঠি পড়ি, সেটা ছোটবেলাতেই বেশ ভালো লেগেছে। এর পরে নজরুলের পত্রাবলীর কিছু অংশ পড়া হয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের চিঠি বা চিরকুট পড়া হয়নি, হলেও মনে পড়ছে না। কিছুদিন আগেই আমার হাতে আসে, রবীন্দ্রনাথের চিঠির এমন একটা সংকলন যেখানে উনার চিঠি থেকে কিছু কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে। মোট ৫ ভাগে ভাগ করা আছে এই ছোট্ট বইটি । ভাগগুলো হল, সাহিত্য, ব্যক্তি, সমাজ, মন ও জীবন।
যদি খুব ভারী প্রবন্ধ কিংবা গল্পের খোঁজে যদি এই বই পড়তে যান, তাহলে নিরাশ হবেন। কিন্তু যদি মনের খোরাক মেটাতে চান, তাহলে পড়তে পারেন।প্রমথ চৌধুরী, ইন্দিরা দেবী, অমিয় চক্রবর্তী, মৃণালিনী দেবী, কাদম্বিনী দেবীসহ বেশ অনেক মানুষ কে লেখা কিছু চিঠির কিয়দাংশ এখানে তুলে ধরেছেন সংকলক। কিছু কিছু কথা যেমন বেশ ভালো লেগেছে, কিছু লেখা মাথার উপর দিয়ে গেছে, কিছু কথা মনে আর মাথায় গেঁথে গিয়েছে।
কয়েকটি তুলে ধরছি, অদ্ভুত সুন্দর একটা বই এইটুকুই বলব। যদি হাতে ১ ঘন্টা সময় থাকে, তাহলে পড়ে ফেলুন।
“যা নিজের আছে তাও পরকে দেবার ক্ষমতা বিধাতা মানুষকে সম্পূর্ণ দেন নি “ - ইন্দিরা দেবীকে, ছিন্নপত্র থেকে। “ আমরা বৃথা সকল জিনিষকে বাড়াইয়া দেখিয়া নিজের মনের মধ্যে অশান্তি ও বিরোধ সৃষ্টি করি”- দীনেশ্চন্দ্র সেন কে, রবীন্দ্র রচনাবলী খন্ড ১০।“... পৃথিবীতে পরের কাজ নিয়ে পরকে ভর্ৎসনা করার চেয়ে নিজের কাজ নিজে করে যাওয়াই ভালো” - মৃণালিনী দেবী কে, রবীন্দ্ররচনাবলী, খন্ড ১ । বিঃদ্রঃ যারা ক্যাপশন খুঁজে পাননা ছবিতে দেয়ার জন্য তাদের কাজে লাগবে, শুধু কষ্ট করে বই দেখে টাইপ করে নিতে হবে।