বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী একজন শিল্পী হলেন মৃত্তিকা দেবনাথ। তিনি একজন বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী ও লেখিকা, যিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর তালিকাভুক্ত রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত। তার সংগীতজীবনের প্রেরণার মূল উৎস তার মা, যার কাছ থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসার বীজ রোপিত হয়।
সংগীতে তার হাতেখড়ি হয় ওস্তাদ পূর্ণ চন্দ্র মণ্ডলের কাছে। পরবর্তীতে রবীন্দ্রসংগীতে প্রাথমিক তালিম নেন ছোড়দা সেবক বিশ্বাসের কাছে। ছোটবেলা থেকেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এক পর্যায়ে তার গান শুনে খুলনা বেতার কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক মোস্তফা কামালের আহ্বানে অডিশন দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। একইভাবে তার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে খুলনার বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সাধন ঘোষ তাকে বিশেষভাবে তালিমের জন্য ডেকে নেন।
সংগীতের বিভিন্ন শাখায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে তিনি উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন আলী আহমেদ ও নারায়ণ চন্দ্র রায়ের কাছে। পাশাপাশি তানপুরায় তালিম গ্রহণ করেন কামরুল ইসলামের কাছে। গানের পাশাপাশি তিনি হারমোনিয়াম, কিবোর্ড, তবলা ও চাকি বাজাতেও পারদর্শী। সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ৩২টি প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।
শিক্ষক হিসেবেও রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। প্রায় ১২ বছর তিনি খুলনার নতুন কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন, বাংলাদেশ ম্যাথডিস্ট চার্চ এবং বাগেরহাটের মূর্চ্ছনা একাডেমিতে সংগীত শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি পরিচালনা করছেন ‘শুদ্ধ সংগীতালয়’ নামে একটি সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সংগীতচর্চার পাশাপাশি তিনি সৃষ্টিশীল কাজেও সক্রিয়। আধুনিক গান, ছড়াগান, পল্লীগীতি, ভক্তিগীতি ও দেশাত্মবোধক গানে সুর, সংগীতায়োজন ও স্বরলিপি তৈরি করছেন নিয়মিত। একই সঙ্গে তিনি লেখালেখিতেও যুক্ত—সংগীত, ভ্রমণ ও রান্না বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় লিখে থাকেন।
তার সৃজনশীলতার আরেকটি দিক ফুটে উঠেছে বই প্রকাশের মাধ্যমে। অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এ তিনি ‘পেঁয়াজ ছাড়া রান্না-বান্না’ শীর্ষক ভিন্নধর্মী রান্নার বই নিয়ে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বইটিতে পেঁয়াজ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের রান্নার রেসিপি তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে তার সুর করা ও গাওয়া গান এবং শুদ্ধ সংগীতচর্চা বিষয়ক পরামর্শ নিয়ে সাজানো একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও রয়েছে, যেখানে তিনি নতুন প্রজন্মকে সংগীতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।