#বই_রিভিউ:
#নাম: ছাগলের চাষাবাদ পাগলের আশাবাদ
#লেখক: আহসান কবির
#প্রকাশক: প্রিয় বাংলা প্রকাশন
#রাজা-বাদশার গল্প ছাড়া কালজয়ী কৌতুক হয় না। চারপাশে কৌতুকের নামে যেগুলো দেখি সেগুলোকে বলে ভাঁড়ামো। সাহিত্যের এই আকাল সময়ে আমার দেখা চারপাশে আহসান কবির একমাত্র ব্যক্তি, যিনি রাজা-বাদশাকে নিয়ে কৌতুক করার নির্দোষ-সাহস রাখেন। তার "ছাগলের চাষাবাদ পাগলের আশাবাদ" বইটি জাতীয় আলোচিত ঘটনা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা সঙ্গতি অসঙ্গতি রম্য রসের মাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা পাঠককে শুধু আনন্দই দেবে না, তার নাগরিক চেতনাকেও উদ্দীপ্ত করবে।
সময়ের পরিক্রমায় প্রেম প্রকাশের ধরন বদলে গেছে। কিন্তু আগেও যেমন নেগেটিভ প্রেম মুখরোচক ছিলো, আজো তাই আছে। "সিনেমার প্রেম একধরনের 'সন্ত্রাসী প্রেম।'"- লাইনটি অদ্ভুত সুন্দর ছিলো। তার গল্পে আছে বাজেট নিয়ে 'নির্মম কৌতুক'। যেমন- বাজেটে কাপড়ের দাম কমলেও সিনেমার নায়িকারা লম্বা কাপড় পরবেন না।
কোন প্রকার গবেষণা ছাড়াই পুলিশ চুলের ফ্যাশনের সাথে অপরাধের যে হাস্যকর যোগসূত্র করে ফেলেছেন তা নিয়ে দারুণ রসিকতা করেছেন " বখাটে কাটিং" গল্পে।
জুয়া খেলাধুলাকে বা খেলোয়াড়দের ফকির করেছে, ম্যানেজমেন্টকে করেছে সম্রাট। ভোটারদের মন জয় করতে উলঙ্গ কৌশল সব সময়েই ছিলো। এক গল্পে দেখি, ময়লা ফেলে ঝাড়ু দিয়ে ভোটারের মন জয় করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খেয়েছেন একজন।
জাতীবি'র এলএলবি পরীক্ষায় জাতীবির সহযোগিতায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে গঠিত হয় "নকল রক্ষার সমবায় সমিতি"। যেখানে শিক্ষকরা খুবই অসহায়। নকলবাজদের নাকাল করেছেন তার লিখনি দিয়ে।
পেঁয়াজের দাম বাড়লে স্বামীরা বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলেন, পেঁয়াজ কাটতে যেয়ে তোমার চোখে জল আসুক, তা আমি চাই না। এমনি সব লেখা। শুধু সুড়সুড়ি দেয়া কৌতুক নয়, খোঁচা দিয়ে রক্তাক্ত করেছেন অপরাধীকে।
"ছাগলের চাষাবাদ পাগলের আশাবাদ" বইটি পড়লে আপনার মন ভালো হবে, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।