Category:প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গবেষণা সমগ্র/সংকলন
বইটি বিদেশি সাপ্লাইয়ারের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে ৩০-৪০ দিন সময় লাগবে।
বই এর প্রথম ফ্লাপ
বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে অন্যতম নাম বিষ্ণু দে। তাঁর প্রবন্ধ শুধু আবেগের উৎসার নয়; সেখানে যুক্তি, তথ্য ও তত্ত্বের নির্মোহ উপলব্ধির অনন্য বিন্যাস। বিষ্ণু দে-র প্রবন্ধের বিরুদ্ধে দুরূহতার ও দুর্বোধ্যতার অভিযোগ অনেকখানি কল্পিত বা প্রচলিত জনশ্রুতির ন্যায়। সমাজের রূপান্তরের সঙ্গে প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর এবং শৈলীর যে রূপান্তর ঘটে তা বিষ্ণু দে-র অজানা ছিল না। তাঁর কবিতায় যেমন সমকাল স্পন্দিত, প্রবন্ধেও তেমনি মননময় কালের অভিঘাত দুর্লক্ষ্য নয়। তাঁর মনীষা যেহেতু প্রতিভা ও পাণ্ডিত্যের যোগফল' তাই 'রসরচনার স্বরূপ সম্বন্ধে অনর্জিত সংস্কার কাটিয়ে যাঁরা একবারও স্বকীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছতে প্রয়াস পেয়েছেন তাঁদের আর বিন্দুমাত্র সংশয় থাকবে না' যে তাঁর প্রবন্ধ শুধু উপভোগ্যতায় উপাদেয় নয়; সেখানে আছে মনন, মেধা, , ঐতিহ্য, পরিশ্রমের ফসল। তাঁর ঐতিহ্য কেবল বাংলাদেশের নয়; তা বিশ্বমানবিক বলেই তাঁর প্রবন্ধে লোকায়ত জীবন থেকে আধুনিক বিশ্বের বিজ্ঞানমনস্কতা অনুপস্থিত নয়। তিনি তাঁর সৃষ্টির সন্ধানে আধুনিক সংস্কৃতির দিগ্বিদিকে বেড়িয়ে আসেন। আধুনিক জীবনের সংঘর্ষ আর ঘূর্ণাবর্ত, আত্মবিকাশ-জনিত দুরূহতা সত্ত্বেও জনসমাজের সামগ্রিক উত্তরণ প্রত্যক্ষই বিষ্ণু দে-র সাহিত্য-জীবনের কেন্দ্ৰীয় ভিত্তি। হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় তাঁকে যথার্থভাবেই বলেছেন, ‘আধুনিক ভারতীয় চৈতন্যের কর্ষণভূমির এক কর্মী'। সেই কর্মী- প্রাবন্ধিকের প্রবন্ধে আধুনিক জীবনের জটিলতা, সংকট আর উত্তরণ। তাঁর প্রবন্ধ না পড়লে কালের স্বরূপ অনুপলব্ধ থেকে যায়। খণ্ডিত চৈতন্য থেকে মুক্তির জন্য, সামাজিক অন্তর্দ্বন্দ্বের বিচ্ছিন্নতা থেকে মুক্তির জন্য, খণ্ডিত অসংলগ্ন বোধ থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্বমনা বিষ্ণু দে-র প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সম্পদ।
Report incorrect information