‘মৎস্যগন্ধা’ এক জেলেকন্যার আর্য-মহিষীতে রূপান্তরের বৃত্তান্ত। মাছের পেটে জন্ম মৎস্যগন্ধার। কৈবর্তপরিবারে পালিত। উনিশে ধর্ষিত, ঋষি পরাশর দ্বারা। তারপর তার টিকে থাকার লড়াই। লড়াই শেষে রাজা শান্তনুর স্ত্রী।
মৎস্যগন্ধা ওরফে সত্যবতীর জীবনে সুখ বা স্বস্তি আসেনি কখনো। তার জীবন প্রেমহীন অথচ সুরভিত, রক্তাক্ত কিন্তু উজ্জ্বল।
দুই বিধবা পুত্রবধূকে নিয়ে হস্তিনাপুরের রাজপ্রাসাদে নিয়তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছে মৎস্যগন্ধা। কূটকৌশল, স্বার্থপরতা, ধর্মাচার, যৌনতা তাকে তাড়িয়ে ফিরেছে।
‘মৎস্যগন্ধা’ এক কৈবর্তকন্যার যুদ্ধজয়ের কাহিনি, আবার পরাজয়ের আখ্যানও ।
‘মহাভারতে’র পটভূমিতে আধুনিক মানুষের জীবনকথা শুনিয়েছেন হরিশংকর জলদাস। এই উপন্যাসে পুরাকাল ও বর্তমানকাল মিলেমিশে একাকার।
‘মৎস্যগন্ধা’য় হরিশংকরের জীবনদর্শন স্পষ্ট। এখানে তাঁর বাক্য সরল। ভাষা মনোহর। ইঙ্গিতবহ। ভানমুক্ত।