13 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 189 You Save TK. 11 (6%)
আমি স্বপ্নের ভেতর দেখি। সেই গাছ। অদ্ভুত আলো নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এতো আলো, যে মনে হয় ঘুম ভেঙে যাবে আমার। গাছটা আমাকে ডাকে। আমাকে কিছু বলতে চায়। আমি বলি, গাছ তুমি নেই। পরক্ষণে মনে হয়,
“কখনো আমার মনে হয় তাকে বাঁচিয়েছে মায়ের জঠর। আবার কখনো মনে হয় বাঁচিয়েছে গাছের জঠর”
কী অদ্ভুত সুন্দর দুটো বাক্য, তাই না? গাছের কি জঠর থাকতে পারে? গাছ কি মায়ের মত ভালো হতে পারে? কত কথা বলে দেয় এ দুটো লাইন! কুশল ইশতিয়াকের গল্পগ্রন্থ “চাঁদ্গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে” এর ‘গাছ’ গল্পটাতে। এরকম দুটো লাইন যে লিখতে পারে, তার লেখনীশক্তি সম্পর্কে কারো সন্দেহ থাকা উচিত না। লেখক নিজেও তা জানেন। আর তাই বই ভর্তি খামখেয়ালীপনা আর সতর্ক অসতর্কতার ছাপ! ছোট গল্পের যে কাঠামোর সাথে আমরা পরিচিত, কুশল তা বারবার ভেঙেছে। বেশি কথা বলা তার নাপছন্দ। যা বলেছে, কম কথায়, কম প্রচেষ্টায়। এই এক্সপেরিমেন্টের ফলে কিছু কিছু গল্পের বুনোট হয়েছে দুর্দান্ত! সেগুলি মনে হয়েছে পরিপূর্ণ। আবার কিছু কিছু গল্পকে মনে হয়েছে গল্পের সারাংশ। এই যেমন “আমার বুকে মায়ের দোয়া” গল্পটার নামের ভেতরেই যেন সব বলে দেয়া। তাই যখন সুপারহিরো প্রসঙ্গ টেনে তা বাংলা সিনেমার দিকে যায়, সমাপ্তিটা বড্ড সাদামাটা লাগে। এর পরের গল্পটাই, ‘মা’ একটা মানসিক টানাপোড়েনের গল্প। কিন্তু বিস্তৃতি খুবই স্বল্প, বা নেই’ই বলতে গেলে। “ইনফার্নাল’ গল্পটায় আবার ফেরেশতার ডানা খসে পড়া থেকে বাস্তব জীবনের স্রষ্টা এবং জীবন বিষয়ক ডিলেমা খাপখোলা তলোয়ারের মত আঘাত করবে মননে! “মিথ্যার মত দেখতে সত্যি গল্প” পড়ে প্রশ্ন জেগেছে, প্রেমিকাবঞ্চিত, আত্মহত্যাপ্রবণ যে ছেলেটাকে নদীর ভেতরে একটা প্রাণী টেনে নিয়ে গেলো পরিত্যক্ত রাজবাড়ীতে, সেখানে কি সে তার প্রেমিকার কাছেই নিজেকে সঁপে দিলো স্বেচ্ছায়? এই প্রশ্নগুলি, এই সংশয়গুলিই কুশলের গল্পের প্রাণ। মেদহীন বর্ণনা, সংলাপ নেই’ই বলতে গেলে, ঘটনা ঘটছে ধীরলয়ে, কিন্তু কোথা থেকে প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী এসে টেনে নিয়ে যায় হঠাৎ করে? কোথা থেকে আলোর বন্যা এসে জলের বুকে দিয়ে যায় মাছের ঝাঁক? এই প্রশ্নগুলিই গল্পের সৌন্দর্য, যার জবাব না পেলেও গল্পের স্বাদ পেতে খুব সমস্যা হবে না!
এই বইয়ের সবচেয়ে সুলিখিত দুটি গল্প হলো “একজন টাইপিস্ট” এবং “স্টেলার ডায়েরি”। যুদ্ধবিদ্ধস্ত শহরে বিষাদী মেয়ের হলঘরের প্রদর্শনী মৃত পাখিদের জন্যে শোক জাগাবে। এদিকে লেখক হতে চাওয়া একজন টাইপিস্টের যুদ্ধবিদ্ধস্ত ঘরে আপন মনে টাইপ করে যাওয়া, আততায়ীর প্রবেশ, এবং কয়েকটি মৃত্যু, জীবন নিয়ে গভীর হাহাকারের জন্ম দেবে।
আমি চাইবো আপনারা এই হাহাকারের সন্ধান পান।