6 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 700
‘সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা’ বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা
সেই আমারও যে কী হয়ে গেল, শুধু রাতটুকু পোহানোর অপেক্ষা! সকাল হলেই দৌড়ুতাম বটতলায়, আর সে তখন এনামেলের থালায় ভাত নিয়ে ঘুর
বইটি বিদেশি সাপ্লাইয়ারের নিকট থেকে সংগ্রহ করতে ৩০-৪০ দিন সময় লাগবে।
'বিধি যাহা লেখি আছে কপালে, বৈশাখী পালে গো বৈশাখী পালে'
বৈশাখী পালের পালা নিয়ে এই একটাই লাইন লিখেছেন ললিন বাবু। নলিনী বেরাকে এই নামেই ডাকতেন তার পরিজন। আর তার বৈশাখী পাল মূলত একটা চর। সুবর্ণরেখায় উঠেছিল। সেই চর দখলের গল্প আছে এখানে। অনেকটা পুরাণের মতো উঠে এসেছে বৈশাখী পালের গল্প। তবে সেটা এ বইয়ের ছোট একটা অংশ কেবল।
'সুবর্ণরেণু সুবর্ণরেখা' মূলত নলিনী বেরার নিজের গল্প। প্রান্তিক মানুষের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। সেই বেড়ে ওঠার সময়ের গল্পটা তিনি বলেছেন। সুবর্ণরেখার তীরে বেড়ে ওঠার সময় যা দেখেছেন, যাদের সঙ্গে বাস করেছেন তাদেরই কথা লিখেছেন। সেই সঙ্গে, বড় হতে হতে বড় বড় সাহিত্যিকদের লেখা পড়ে দেখেছেন কখনো না কখনো তা নিজের সঙ্গে মিলে যায়। নিজের উপন্যাসে সেই মিলের কথাগুলোও তুলে ধরেছেন৷ এসেছে 'পথের পাঁচালী', 'হাঁসুলি বাঁকের উপকথা' থেকে অনেক আধুনিক লেখাজোকার কথাও।
এ বইটাও অনেক দিন নজরে ছিল। কারণ একটাই। মানুষের মধ্যে থেকে উঠে আসা লেখকদের গল্পগুলো অন্যরকম হয়। নলিনী বেরার এ বইও তাই। শকুনের পালক কানে গুঁজে মানুষের ভেতরের পশুকে দেখা, ব্রাহ্মণের চাল চুরি থেকে পিসীকে খুঁজতে গিয়ে ললিনের অপু হয়ে ওঠার মধ্যে আমরা সাঁওতাল-লোধা-কামহার-কুমহারদের জীবনও জানতে পারি।
তবে বইটা কেমন যেন অসম্পূর্ণ। যে গল্প নলিনী লিখেছেন সেখানেও যেন পুরোটা ডুব দেননি তিনি। যেমনটা দিয়েছিলেন অনিল ঘড়াই তার 'অনন্ত দ্রাঘিমা'য়। ফের বড়দার বিয়েতেই কেন গল্পটা শেষ হয়ে গেল তা-ও এক প্রশ্ন। ললিনের গল্পটা আরো বড় হওয়ার কথা।
#রহমান_সাহেবের_পড়াশোনা
#বইপত্র_২০২৩