32 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 440TK. 308 You Save TK. 132 (30%)
"মি বিফোর ইউ" বইয়ের সংক্ষিপ্ত লেখা:
অতি সাধারণ মেয়ে লুইসা ক্লার্ক, অতি সাধারণ তার জীবনযাত্রা। কাঠখোট্টা প্রেমিক আর আপন পরিবার—এসবই তার ধ্যানজ্ঞান। নিজের ছোট্ট গ্রামের গ
লুইসা ক্লার্ক- অতি সাধারণ একজন মেয়ে। অতি সাধারণ তাঁর জীবনযাত্রা। ‘দ্য বাটার্ড বান’ নামের একটি ছোট্ট ক্যাফেটেরিয়ায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে কাজ করে আসছে। একদিন সকালে হুট করেই ক্যাফের মালিক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাফেটি বন্ধ করে নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাবার সিদ্ধান্ত জানায়। যাবার আগে অবশ্য লুইসাকে তিনমাসের বেতন দিয়ে যায়।
চাকরি হারানো লুইসা পরিবারের সাথে কয়েকটি দিন কাটিয়ে আবার চাকরি অনুসন্ধান কেন্দ্রে চাকরি খুঁজতে থাকে। প্রেমিক প্যাট্রিক লুইসাকে নানা রকম প্রশিক্ষণগ্রহণের পরামর্শ দেয় কিন্তু সে-সবের কোনো কিছুই লুইসার মনমতো হয় না।
তারপর একদিন চাকরি অনুসন্ধান কেন্দ্রের মাধ্যমেই পরিচর্যাকারীর একটি কাজের খোঁজ পায় লুইসা। নিরুপায় লুইসা বাধ্য হয়ে সেই চাকরিটা গ্রহণ করে। লুইসার কাজ, উইল ট্রেইনর নামের একজনের দেখাশোনা করা।
উইল, এক কথায় বললে- যার জীবন বিশাল, বিস্তৃত, নান্দনিক, রোমাঞ্চকর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এক সড়ক দুর্ঘটনায় চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে চিরতরে। মেডিকেলের ভাষায় উইলের অবস্থাকে বলে- কোয়াড্রিপ্লেজিক। বিশেষ ধরণের হুইলচেয়ার হয়ে ওঠে তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী।
একরোখা, জেদি ও খিটমিটে মেজাজের উইলের সাথে আলাভোলা, সদা লাস্যময়ী ও নরম স্বভাবের লুইসার প্রথম প্রথম মানিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু যখন উইলের সুখ-দুঃখগুলো তাঁর কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করতে শুরু করে ঠিক তখন ঘটনাক্রমে লুউ জানতে পারে উইলের এক ভয়াবহ ইচ্ছের কথা। যেটা লুউর ভেতরটা একদম নাড়িয়ে দেয়। লুউ সিদ্ধান্ত নেয়, উইলকে সে অনুভব করাবে- জীবন একটি উপহার!
মাত্র ছয়মাসের চুক্তিতে লুইসা এই কাজটি গ্রহণ করেছিল। এই ছয়মাসের প্রতিটি দিন সে খুব যত্নের সাথে উইলের সেবা করেছে। গভীরভাবে মিশেছে। মূল্যবান সেসব দিনগুলো নানা পরিকল্পনা আর উইলকে নিয়ে বেড়িয়ে কাটিয়েছে। এই কাজে সাহায্য করেছে নাথান, সে উইলের আরেকজন পরিচর্যাকারী।
উদ্ভট পোশাক পরা আর চাপা স্বভাবের মেয়ে লুউকেও নানা সময়ে উইল সহায়তা করেছে। লুউকে আরো বিস্তৃত জীবন যাপনের পরামর্শ দিয়েছে। নিজেকে আরো মেলে ধরতে পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি লুউর বাবাকে চাকরি যোগাড়ও করে দিয়েছে উইল।
ঠিক সেই সময়টিতে নানা কারণে লুউকে উইলের বাড়িতে থাকতে হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উইলকে নিয়ে বিদেশে বেড়াতে যাবার কথা। এই কথা জানতে পেরে লুউর প্রেমিক পেট্রিক বাঁধা দেয়। সে লুউকে যেতে দিতে চায় না। একই সময়ে পেট্রিকেরও একটি অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা ছিল। ফলে তাঁদের দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্কটি ছিন্ন হয়ে যায়!
সদ্য বিচ্ছেদ হওয়া লুউ কি পারবে উইলের ভেতর গোপন সিদ্ধান্তের মত বদল করতে তাকে নিয়ে বিদেশ থেকে বেড়িয়ে আসতে? উইলের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কি কোনো ভবিষ্যৎ আছে? আর উইল, সেকি পারবে তাঁর প্রেমিকার বিয়েতে গিয়ে সবার সাথে সদাচরণ করতে? লুউকে কি সে ভালোবাসবে, গ্রহণ করবে? জীবনের কাছে তাঁর আর কীইবা চাইবার আছে?
উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কিংবা পটভূমি খুব বেশি বিস্তৃত নয়। চরিত্রও খুব বেশি নয়। ক্লার্ক এবং ট্রেইনর পরিবারের মধ্যেই এই কাহিনী সীমাবদ্ধ। বাইরের চরিত্র বলতে গেলে লুইসার প্রেমিক এবং উইলের সাবেক প্রেমিকা এসেছে।
উপন্যাসে লুইসা এবং উইল সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন চরিত্র। একদম আলাদা দুটি ব্যক্তিত্ব। দুজনেরই সাবেক প্রেমের ইতিহাস রয়েছে। রয়েছে ভালোবাসার অভিজ্ঞতা এবং প্রেমের ক্ষত। তথাপি সেসব ছাড়িয়ে এদুটো জীবন আবার নতুন করে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে।
বলা হয়ে থাকে, এটি এ প্রজন্মের অন্যতম সেরা ভালোবাসার উপাখ্যান! আাসলেই কী তাই? বইটি না পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন না। তবে বইটি নিশ্চিতভাবেই বুকের ভেতরটা স্পর্শ করতে পেরেছে।
চমৎকার প্রচ্ছদ, মাখন রঙা কাগজ আর দারুণ বাইন্ডিং-এর অনবদ্য একটা বই। তরুণ অনুবাদক শোভন সাহেবের এটি প্রথম অনুবাদ কর্ম। একদম ঝরঝরে না হলেও মোটামুটি ভাল হয়েছে। উদ্বাহু প্রশংসা করতে পারছি না। ভূমি প্রকাশ এবং অনুবাদকের জন্য শুভ কামনা রইলো।