3 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 250TK. 215 You Save TK. 35 (14%)
কত বিচিত্র সব ঘটনা জড়িয়ে আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপক বিস্তৃত পট-পরিসরের পরতে পরতে। গল্পের চেয়েও বিস্ময়কর আর হৃদয়স্পর্শী এইসব ঘটনাক্রমের কতটুকুই-বা আমরা জানি! চট্টগ্রামের ব
মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন বইটিতে। যার একটি সংক্ষেপে উল্লেখ করছি -
চট্টগ্রামের মিরেরসরাই থেকে শুরু করে ফেনী নদী পার হয়ে মোট প্রায় ২০ মাইল জায়গা চলাফেরার জন্য ছিল খুবই বিপদজনক। অথচ এপার থেকে ওপারে যাওয়া আসার জন্য এ জায়গাটা পার হওয়ার বিকল্প ছিল না। অবশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম পার হয়েও আসা যেতো কিন্তু তাতে সময় লাগতো অনেক বেশি। সমূদ্রের কিনারা থেকে পাহাড়ের নিকটবর্তী সীমান্তের দূরত্ব এখানে খুবই কম। ফলে এ জায়গায় পাহারা জোরদার করলে পাকিস্তানিরা চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের বা ওপারের যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে পারতো। চেষ্টার অবশ্য ত্রুটি তারা করেনি। আর এ অবস্থার মধ্যেই চলাফেরা করতে হয়েছে আমাদের ছেলেদের। ধরাও পড়েছে কেউ কেউ। ছেলেরা সাধারণতঃ মিরেরসরাই এলাকায় পৌঁছবার পর হাঁটাপথে গ্রামে ঢুকতো। তারপর ভুরভুরি ঘাট, না হয় মিয়াজান ঘাট দিয়ে নদী পার হয়ে গ্রামের পথে ৩/৪ মাইল যাওয়ার পর রাতের অন্ধকারে চলে যেতো ওপারে। খান সেনাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল এখানে কিন্তু বেশি বিপজ্জনক ছিল রাজাকার বাহিনী। কারণ তারা দেশের লোক। মানুষ আর পথঘাট তাদের চেনা। তাদের চোখে ধুলো দিয়ে যাওয়া আসা ছিল সত্যিই কঠিন।
একদিন ক’জন ছেলে আমার বাসায় বসে আলাপ করছিল। প্রত্যেকেরই এক কথা, মিরেরসরাই এলাকা দিয়ে চলাফেরা করা দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আলোচনার এক পর্যায়ে একজন হাসতে হাসতেই বললো, “আমাকে তোরা রাজাকার বানিয়ে দে, তাহলে আর কোন ভয় থাকবে না। তোদের দেখলে এ্যারেষ্ট করে সোজা ওপারে পৌঁছে দিয়ে আসবো।” সবাই হেসে উঠলো ছেলেটির কথা শুনে কিন্তু আমি হাসিনি। আমি দেখলাম, হাসি-তামাশার ভেতর দিয়ে কঠিন একটা সমস্যার সমাধান হয়ে গেল অথচ ছেলেরা বুঝলো না।
কথাটা আমার মনে খুব লেগেছিল আর সেজন্যে এ ব্যাপারে অনেকক্ষণ ধরে তাদের সাথে কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম, “কঠিন একটা সমস্যা যদি এতো সহজে সমাধান করা যায়, তাহলে তোমাদের ভেতর থেকে কিছু ছেলে রাজাকার হয়ে যাওনা কেন? ছেলেদের আসা যাওয়ার সময়ে তারা কেবল সঙ্গে থাকবে। মিলিটারির হাতে যদি ধরা পড়ে কেউ, তখন কড়া স্যালুট দিয়ে নকল রাজাকাররা বলবে যে, বন্দীদের তারা ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর ক্যাম্পের বদলে চলে যাবে তারা ওপারে।”
.... অবশেষে এ ধরণের একটা ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। কিছুসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানিয়ে দেয়াতে মিরেরসরাই এলাকায় ছেলেদের চলাফেরায় পরে বেশ সুবিধা হয়ে যায়...