ভোরের আকাশ দেখতে সুদীপ্তার বেশ ভালো লাগে। চারদিকের বদ্ধ ফ্লাটগুলোর এক চিলতে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সুদীপ্তা ভোরের ফুটন্ত আলোকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কখন যে অনীক পাশে এসে দাঁড়িয়েছে জানে না। কফির কাপ বাড়িয়ে দিতে দিতে বলে, কি ভাবছো সু? অনীক জানে, সুদীপ্তার মনের মাঝে একটি কবিমন গোপনে লুকিয়ে আছে। ভোরের আলোর ঔজ্জ্বল্যের মতোই সুদীপ্তা হেসে ওঠে। বলে, দেখো, কি সুন্দর ভোরের আকাশে সূর্য ফুটে উঠেছে।
ধূমায়িত কফির কাপে চুমুক দিতে গিয়ে অনীকের মনে হয় সে যেন চতুর্দিকে কেবলই কতকগুলো অট্টালিকার সমারোহ দেখছে। এ যেন এক দম বন্ধ করা পরিবেশ কোথায় ভোরের আকাশের সেই শুভ্রতা? ছেলেবেলায় যখন গ্রাম থেকে এ শহরে এসেছিল, তখনো কি না আনন্দই লাগত। এমনভাবে দালানকোঠার ভিড়ে চতুর্দিকে পিষ্ট হয়নি। আজ নগরজীবনের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে গেছে। তবু সুদীপ্তার হাস্যোজ্জ্বল মুখকে ম্লান করে দিতে চায় না।