আনুমানিক রাত একটা দুটো তো হবেই। হাতের ঘড়িটা টেবিলের উপর খুলে রেখে অফিসের বারান্দায় পায়চারী করছে বিথী। বিথী আর ছায়া দু'বোন। ওরা দুজন বি,এ,ভি, এস অফিসে কিছুদিন হয় চাকরী নিয়েছে। বিথীর বিয়ে হয়েছে ছায়ার বিয়ে হয়নি। দু'জন দেখতে একই রকম। অফিস স্টাফরা মাঝে মাঝে ভুল করে বসে, বিথীকে ছায়া ভেবে। ছায়াকে বিথী ভেবে। ওদের হাঁটাচলা, কথাবার্তা সবই এক রকম। এমনকি দুজনে শাড়ি পড়ে একই কালারের। একটু খেয়াল করলে দেখা যায় ছায়ার চুল কোকরানো বিথীর চুল সোজা সিলকি।
চাকরী করতে ভালই লাগছে। কিন্তু রাতের নিস্তব্ধতা ভালো লাগে না। অতীত মনে করিয়ে দেয়। অফিসে তিন সিফটে কাজ করতে হয়। মনিং, ইভিনিং, নাইট। আজ অফিসের তিনতলায় নাইট পড়েছে বিথীর। সব পেথেডিন দেওয়া লাইগেসানের রুগী। ঘুমে অচেতন। শুধু একজন স্টাফ ও দুজন আয়া ছাড়া। ডাক্তার আপাও ঘুমাচ্ছে। কারণ লাইগেসানের রুগীদের কাছে বসে থাকা খুব একটা প্রয়োজন হয় না। শুধু মাঝে মধ্যে ব্লাড প্রেসার ও পালস দেখে একটা চার্ট তৈরী করতে হয়। কাজ কম হলেও রাতটাতো বড়। এত বড় রাত পার করতেই বিথীর কষ্ট হয়। বারান্দায় পায়চারী করতে করতে কত কথা ভাবে বিথী। তার নিজের জীবনের কথা। শৈশবের কথা। হঠাৎ বিথী দেখতে পেলো রাস্তার উপর হুমড়ি খেয়ে একটা লোক পড়ে গেলো।