"জাদুর বেলুন" ফ্ল্যাপের লেখা: মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনের প্রারম্ভিক পর্ব সম্পর্কে আমাদের সবার আলাদা ধারনাটি আমরা জন্ম সূত্রেই পেয়ে থাকি বলে আমার ধারনা। তবে আমাদের মনােপ্রকৃতি বা বিকাশগুলাে আমাদের অজান্তেই একেবারে একান্ত নিবিড়ভাবেই গড়ে উঠে। কিন্তু তার পরও বাবা মা-রা তাদের শিশুদের প্রতি একেবারে ব্যাখ্যাহীন এমন আচরণ করে যার কোন অর্থ হয়তাে তার নিজের কাছেও অর্থহীন হয়ে উঠে। কিন্তু এতাে কিছুর পরও একটি পরিবারের শিশুরা একেবারে একই ভাবে লালন করার পরও তারা তাদের নিজস্ব স্বত্বা নিয়েই একেক জন একেক রকম অবস্থায় রূপ প্রকাশ করে। কারন হিসাবে বলা যেতে পারে প্রতিটা শিশুই তার শৈশবে তার চারপাশের জীবন সম্পর্কে নিজের অবস্থান আর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বড় হতে থাকে। এই পৃথিবীতে প্রতিটা শিশুই প্রথমত ও প্রধানত এমন একটি স্বত্বা যা সবসময়ই একেবারে নিভৃত্বেই স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে বিকশিত হয়। আর তার জন্যেই সব শিশুরাই তার নিজেকে একটি আলাদা অনন্য ভাবতে শুরু করে। আর এই অনন্য ব্যক্তিত্বের বিকাশ শুধু তার সহজাত চরিত্রের বৈশিষ্ট্য দিয়ে বা তার সামাজিক অবস্থা দিয়ে নির্ধারিত হয় না, সেটি নির্ধারিত হয় সম্ভবত তার একান্তে নিভৃতে মনুষ্য জগৎ আর বস্তুজগৎ সম্পর্কে গড়ে উঠা সবিশেষ মনােভাব দিয়ে। এবং তা সে। অনুসরণ করতে শুরু করে তার অজান্তেই। প্রতিটা শিশুর অন্তরের ‘আমি’-এর কীভাবে প্রভেদন ঘটে তার নিজের সম্পর্কে চৈতন্যের বিকাশ এবং ব্যক্তি স্বাতন্ত্যের অর্জন করে, তারই একটি চিত্রের চেষ্টা করা হয়েছে। কালের সঙ্গে সম্পর্কিত রূপে নিজের সম্পর্ক বােধের উন্মেষের সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠলে প্রতিটি শিশুই তার নিজেকে নতুন করে চিনতে শুরু করে এবং তার নিজের বিকাশের দিগন্ত তার সামনে একেবারে অনাবৃত হয়ে উঠে। এই বইটিতে সুচারু রূপে তারই অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে।
মাদারীপুর জেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামে মেহেদী হাসানের জন্ম।
পিতা: হাজী এসকান্দার আলী মোল্যা এবং মাতা: জোবায়দা খাতুনের সুযোগ্য সন্তান মেহেদী হাসান বড় হয়েছেন গ্রামের সবুজাভ প্রকৃতির আপন আঙিনায়। তিনি মাদারীপুর সদর থানার অন্তর্গত খোয়াজপুর ইউনিয়নের খোয়াজপুর টেকেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন একই জায়গায় অবস্থিত আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে।
লেখকের অন্যান্য বই: নাফ নদ রক্তগঙ্গা (কবিতা), এক ফোটা জল (কবিতা), শূণ্য (কবিতা), রঙ বদলের দিন (গল্প), নবজাতক (উপন্যাস), গোধূলি সন্ধ্যা (উপন্যাস), ভোট (উপন্যাস), প্রজাপতি মন (উপন্যাস), সীমানা ও সীমানার বাইরে (প্রবন্ধ, প্রথম খণ্ড), সীমানা ও সীমানার বাইরে (প্রবন্ধ, (দ্বিতীয় খণ্ড)