চারপাশে ধূধূ বালুচর। শুধু হাত বিশ তিরিশেকের মত জায়গায় সামান্য পানি, সে পানি হাঁটু পানিও হবে না। সেটুকু পারাপারের জন্যই একটা বাঁশের সাঁকো পাতা। গ্রামের ছেলে বুড়োরা কেউ সে সাঁকো ব্যবহার করে না। আসলে ব্যবহার করার দরকারই হয় না। পানির নিচে চিকচিক করছে বালি। উপরে টলটলে স্বচ্ছ পানি। এ পানি টুকুন গায়ে মাখতে যে কারও ভালই লাগবে। তাই সাঁকো থাকে সাঁকোর জায়গায়। কস্মিনকালে সৌখিন ভদ্র গোছের কেউ এলেই কেবল সাঁকোতে পা পড়ে। আর তার অপেক্ষাতেই সারাটা দিন-ক্ষণ কেটে যায় সিরাতন মাঝির।
চৈত্রের কাঠফাটা রোদ, সেইসাথে মাথার ওপর জ্বলন্ত সূর্য গনগন করছে। এমন অবস্থায় খোলা জায়গায় বসে থাকা মুশকিল। তাই চরের ওপর একখানা টংঘর বানানো হয়েছে। ঘর বলতে বাঁশের একখানা মাচাং, তার ওপর কাশখড় দিয়ে তৈরি দোচালা ছাউনি। ভোর হতে না হতেই সেখানে এসে অবস্থান নেয় সিরাতন মাঝি। সারাদিন পার করে প্রায় মাঝ রাত্তিরে বাড়ি ফেরে।