"অনুভূতির আকাশে তারার মেলা" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:
ভাল-মন্দ, সুন্দর-অসুন্দর এবং সুখ-দুঃখ হাত ধরাধরি করে চলে জীবনের বাঁকে বাঁকে। এভাবে জীবন থেকে যেন খুব দ্রুতই বিদায় নেয
বইয়ের প্রতি ছত্রে পাওয়া যায় দেশের প্রতি, প্রিয়জনের প্রতি লেখকের টান। সর্বোপরি এক নিমিষে পড়ার মতো একটা বই যা আপনাকে অন্য ভুবনে নিয়ে যাবে।
Was this review helpful to you?
By Sultan, Oct 26, 2019
নিঊইয়রকের ব্যস্ততম রাস্তায় শাড়ি পরিহিত এক বাঙ্গালি মহিলা গাড়ি চালাচ্ছেন। তাঁর তেল সিক্ত মাথায় মাঝখানে সিঁথি কাটা। শ্যামলা বর্ণ, গোলগাল চেহারা, মাঝারি ঊচ্চতার এই মহিলার পাশের আসনে একজন পুরুষ বসা, হয়তো তাঁর স্বামী। এ যেন গাড়ি চালানো নয় বাঙ্গালি নারীর বিশ্বজয়। এই দৃশ্য লেখকের গাড়ি চালানোর সাহাস দিয়েছিল।
অনুভূতির আকাশে তারার মেলা আমেরিকা প্রবাসী লেখক রিমি রুম্মানের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা। প্রবল আবেগ আর মমতা দিয়ে লেখক এই সকল ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।
লেখকদের আমি বলি শব্দ ‘কারিগর’। শব্দের এই খেলায় লেখক কুশলতা দেখিয়েছেন। নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হল ;
‘মাইক্রোস্কোপে এক চোখ বন্ধ করে অন্য চোখে মা যখন কিছু দেখতেন, মাকে কী ভীষণ স্মার্ট এবং সুন্দরই না দেখাতো! মা’কে পৃথিবীর সেরা সুন্দরী মনে হত।’
‘আমি বিশ্বাস করি , কখনো কখনো কারো কিছু পাওয়ার পিছনে অন্য কারো হারানোর গল্প থাকে। যে গল্পগুলো বুক চেরা দীর্ঘশ্বাসের নিচে চাপা পড়ে থাকে অনন্তকাল।’
‘ স্বার্থপরের মতো স্মৃতিস্বরূপ মায়ের কোনও শাড়িই আনিনি সাথে। কেননা, আমার মনে হচ্ছিল এইসব স্মৃতিময় জিনিস আমাকে আমৃত্যু কাঁদাবে।’
প্রবাসীদের জন্য আমেরিকা কতোটা প্ররিশ্রমের তার প্রমাণ পাওয়া যায় লেখকের ১২/১৪ ঘন্টা পরিশ্রম শেষে বিভিন্ন ব্যথার ঔষধের ব্যবহার দেখে। বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ভাষভাষী মানুষের সমৃদ্ধ এক সমাজের চিত্র পাওয়া যায়। কন্যা, মা, পুত্রবধূ বিভিন্নরূপে লেখকে পাওয়া যায়। বইয়ের প্রতি ছত্রে পাওয়া যায় দেশের প্রতি, প্রিয়জনের প্রতি লেখকের টান। সর্বোপরি এক নিমিষে পড়ার মতো একটা বই যা আপনাকে অন্য ভুবনে নিয়ে যাবে।